মেলবোর্ন, ১৫ ফেব্রুয়ারি- নৌবাহিনীকে আধুনিক ও শক্তিশালী করতে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন নির্মাণে বড় বিনিয়োগের পথে হাঁটছে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া নিরাপত্তা জোট AUKUS-এর আওতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে অত্যাধুনিক একটি শিপইয়ার্ড গড়ে তুলতে সরকার প্রাথমিকভাবে ৩.৯ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই অর্থকে প্রকল্পের ডাউন পেমেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আগামী কয়েক দশকে পুরো কর্মসূচির ব্যয় প্রায় ৩০ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সাবমেরিন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করবে। ২০৩০ সালের দিকে অস্ট্রেলিয়া সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে Virginia-class submarine শ্রেণির কয়েকটি পারমাণবিক সাবমেরিন কিনবে।
দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার কোম্পানিগুলো যৌথভাবে নতুন প্রজন্মের সাবমেরিন তৈরি করবে। এ প্রকল্পে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা ঠিকাদার BAE Systems এবং অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ASC Pty Ltd একসঙ্গে কাজ করবে।
এটি অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারের ভাষ্য, এর মাধ্যমে দেশটির সমুদ্রসীমা সুরক্ষা ও কৌশলগত সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। পাশাপাশি শিপইয়ার্ড নির্মাণ ও সাবমেরিন উৎপাদন কার্যক্রমে আগামী কয়েক দশকে হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া দ্রুতগতিতে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের পথে এগোচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই বিনিয়োগ অস্ট্রেলিয়ার কৌশলগত অবস্থানকে নতুন মাত্রা দেবে।
সূত্র : রয়টার্স