‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ১৬ ফেব্রুয়ারি- নোয়াখালীর হাতিয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন একজন নারী ধর্ষণের অভিযোগ তুলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ওই নারী অভিযোগ করেছেন, তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি-কে ভোট দেওয়ার কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পর থেকেই তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে দেয়া সাক্ষাৎকারের ভিডিও বিবিসির হাতে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, নারীর কথায়, নির্বাচনের দিন বৃহস্পতিবার থেকে তার উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। শুক্রবার রাতে তার স্বামীকেও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। সেই রাতেই তিন ব্যক্তি এসে নারীর সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এরপর শনিবার ভোর ছয়টা সাড়ে ছয়টার দিকে আবার ১০-১২ জন ব্যক্তি এসে তার স্বামীকে মারধর করে তাকে নিয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেছেন।
ওই নারী বর্তমানে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালের সুপারিনটেন্ডেন্ট ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, শনিবার বিকাল পাঁচটার দিকে ওই নারী ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তার শরীরে বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে ধর্ষণ হয়েছে কি না তা যাচাই করার জন্য পুলিশ বা আদালতের অনুমতি প্রয়োজন। এই অনুমতি ছাড়া হাসপাতালে ধর্ষণের পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা সম্ভব নয়।
রোববার সকাল দশটায় নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন এবং জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ওই নারীকে হাসপাতালে দেখতে যান। সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে ধর্ষণের পরীক্ষা বা মামলা দায়েরের জন্য হাসপাতালকে আনুষ্ঠানিক চাহিদাপত্র পাঠানো হয়নি।
এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে মন্তব্য করে জানিয়েছেন, এই ঘটনা তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতার কাছে তুলে ধরবেন। এছাড়া দলটির অঙ্গসংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরও এই ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে।
হাতিয়ার এই এলাকা নোয়াখালী-৬ আসনের অন্তর্ভুক্ত। এই আসনে নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন এনসিপির নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদ। তিনি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে নোয়াখালী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ-এর মন্তব্যের আগে তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই পরিস্থিতি ঘোলা করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান মোবাইলে ওই নারীর সঙ্গে কথা বলে আইনী সহায়তা এবং সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
শুক্রবার রাতে কি ঘটেছিল
ওই নারী নলেরচর এলাকার একটি আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা। এই আশ্রয়ন প্রকল্পে ভূমিহীন মানুষদের বাসস্থান দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন বৃহস্পতিবার থেকে হুমকি পাওয়ার কারণে শুক্রবার রাতে চাচাতো বোনের বাড়িতে যান। সেখানে ভাঙচুর ও হামলার শিকার হন। পরে তার স্বামী তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। রাত ১১টার দিকে তিন ব্যক্তি এসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটায়।
পরবর্তীতে শনিবার ভোরে ১০-১২ জন ব্যক্তি আবার এসে তার স্বামীকে মারধর করে তাকে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর নারীর নিরাপত্তায় হাসপাতালে সাত সদস্যের একটি পুলিশের দল মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তরা এই অভিযোগকে “বানোয়াট ও মিথ্যা” বলে দাবি করেছেন।
হাসপাতালের সুপারিনটেন্ডেন্ট ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, ধর্ষণের পরীক্ষা সম্পাদনের জন্য পুলিশ বা আদালতের আনুষ্ঠানিক চাহিদাপত্র প্রয়োজন। তারা ইতিমধ্যে নারীর শরীরের অন্যান্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। তবে ধর্ষণ পরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য আনুষ্ঠানিক রিকুইজিশন না আসায় তা এখনও করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক বিষয়টি দেখেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবার আশ্বাস দিয়েছেন।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন নারীর সঙ্গে দেখা করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লিয়াকত আকবর জানান, শনিবার আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। মারধরের বিষয়টি সত্যতা পেয়েছেন, তবে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নোয়াখালী-৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের ফলাফলের পর এলাকায় ব্যাপক হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, মহিলার অভিযোগ সত্যও হতে পারে, মিথ্যাও হতে পারে। তবে আইনী প্রক্রিয়া অনুসারে ঘটনার তদন্ত হবে। তদন্তের আগে পুলিশের মন্তব্য প্রমাণিত নয়।
ছাত্রদলের প্রতিক্রিয়া
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, “সকল প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ, ভিডিও বক্তব্য, চিকিৎসা নথি এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিস্তারিত যাচাই-বাছাই পর্যালোচনা করে এ পর্যন্ত হাতিয়ার ঘটনাটি অনেকের কাছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিত বয়ান বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।”
এভাবে নির্বাচনের পর ঘটে যাওয়া এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে গভীর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি সংবেদনশীল রয়ে যাচ্ছে।
সূত্রঃ বিবিসি বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au