স্যাম অল্টম্যান, ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন ১৬ ফেব্রুয়ারি- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা ভারতের রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্যাম অল্টম্যান। ওপেনএআই–এর প্রধানের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ‘গ্লোবাল এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’-এ অংশ নিতে এসে অল্টম্যান জানান, ভারতে যেভাবে দ্রুত হারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে, তা নজর কেড়েছে সংস্থার। তিনি বলেন, এ দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের একাংশ থেকে এআই পরিষেবা নিয়ে আপত্তির সুর শোনা গিয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো অভিযোগ করেছিলেন, আমেরিকার অবকাঠামো ব্যবহার করে ভারত ও চিনসহ অন্যান্য দেশে পরিষেবা দিচ্ছে চ্যাটজিপিটি। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত–মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরেছে বলেই জানা গেছে।
অল্টম্যান জানান, ব্যবহারকারীর সংখ্যার বিচারে আমেরিকার পরেই রয়েছে ভারত। বর্তমানে ভারতে চ্যাটজিপিটির সক্রিয় ব্যবহারকারী প্রায় ১০ কোটি। বিশ্বজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ভারতীয়দের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।
তিনি আরও বলেন, বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সহায়তার জন্য তৈরি বিশেষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সরঞ্জাম ‘প্রিজম’ ব্যবহারে ভারত বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। গত বছর নয়াদিল্লিতে ওপেনএআই তাদের নতুন দপ্তর চালু করেছে। ইতিমধ্যে দেশের চারটি বড় শহরে বিভিন্ন অলাভজনক সংস্থার অন্তত ২০০ জন প্রতিনিধিকে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
ভারত সরকারের সঙ্গে ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন ওপেনএআই প্রধান। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মানচিত্রে ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবেই দেখছে সংস্থাটি।