আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১৭ ফেব্রুয়ারি- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে শপথ গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত সদস্যরা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথকক্ষে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছিলেন, বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেন, তাহলে জামায়াতের নির্বাচিত সদস্যরাও কোনো শপথ নেবেন না। তিনি জানান, দুপুর ১২টায় তাদের শপথের সময় নির্ধারিত ছিল এবং সে অনুযায়ী তারা সংসদ ভবনে উপস্থিত হবেন।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়েই জামায়াতের সদস্যরা শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে সংসদ ও সংস্কার পরিষদকে ঘিরে রাজনৈতিক অবস্থান ও কৌশল নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
এর আগে একই দিন সকালে প্রথম ধাপে শপথ নেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নবনির্বাচিত সদস্যরা। তারা বেলা পৌনে ১১টার দিকে শপথগ্রহণ করেন। ফলে দুই ধাপে সংখ্যাগরিষ্ঠ ও অন্যান্য দল মিলিয়ে নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলো।

সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নিলেন জামায়াত, অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ রুমিন ফারহানার
নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জাতীয় নাগরিক পার্টি ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসন পেয়েছে।
ভোটের হিসাবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মোট ভোটের ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ পেয়েছে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট। শাপলা কলি প্রতীকে জাতীয় নাগরিক পার্টি পেয়েছে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেয়েছে ২ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং রিকশা প্রতীকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে ২ দশমিক ০৯ শতাংশ ভোট। অন্যান্য দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের হার এক শতাংশের নিচে।
এক শতাংশের কম ভোট পাওয়া দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, বাসদ, গণফোরাম এবং নাগরিক ঐক্যসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল এবং ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশ নেন। সরকার গঠন করতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সর্বোচ্চ ২৯১টি আসনে প্রার্থী দেয় এবং তাদের কোনো প্রার্থী জামানত হারাননি। বিরোধী দলের আসনে বসতে যাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২২৯টি আসনে প্রার্থী দেয়, যার মধ্যে তিনজন নির্ধারিত ভোটসংখ্যা অর্জন করতে না পেরে জামানত হারান।
বিগত সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ১৯৮টি আসনে প্রার্থী দেয়। তবে তাদের মধ্যে মাত্র পাঁচজন জামানত রক্ষা করতে সক্ষম হন। বাকিরা প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানত হারান। জুলাই অভ্যুত্থানের পর গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, তাদের তিনজন প্রার্থী জামানত হারান। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, কমিউনিস্ট পার্টি, বাসদ, নাগরিক ঐক্যসহ অন্যান্য ছোট দলগুলোর বেশিরভাগ প্রার্থীও জামানত রক্ষা করতে পারেননি।
দুই ধাপে শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন সংসদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। এখন সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকায় কোন দল কী অবস্থান নেয়, তা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au