‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ১৮ ফেব্রুয়ারি- যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ও দু’বারের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী রেভারেন্ড জেসি জ্যাকসন আর নেই। মঙ্গলবার পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ৮৪ বছর বয়সে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।
বিবৃতিতে পরিবার জানায়, তিনি শুধু পরিবারের অভিভাবকই ছিলেন না, বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত, কণ্ঠহীন ও অবহেলিত মানুষেরও একজন বলিষ্ঠ নেতা ছিলেন।
২০১৭ সালে পার্কিনসন রোগে আক্রান্ত হন জ্যাকসন। তার মৃত্যু এমন এক সময়ে এলো, যখন ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ‘যুক্তরাষ্ট্র-বিরোধী’ আদর্শ সরানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে গৃহযুদ্ধকালীন কনফেডারেট ভাস্কর্য পুনঃস্থাপন এবং দাসত্ববিরোধী প্রদর্শনী সরিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নাগরিক অধিকার কর্মীদের আশঙ্কা, এতে দীর্ঘদিনের সামাজিক অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
দক্ষিণের বর্ণবাদী পরিবেশ থেকে উঠে আসা জেসি জ্যাকসন ১৯৬০-এর দশকে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৬৮ সালে মেমফিসের লোরেইন মোটেলে আততায়ীর গুলিতে কিং নিহত হলে জ্যাকসন কাছেই অবস্থান করছিলেন। কিংয়ের মৃত্যুর পর তিনি শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে সামনে আসেন।
সত্তরের দশকে তিনি শিকাগোভিত্তিক ‘অপারেশন পুশ’ এবং ‘ন্যাশনাল রেইনবো কোয়ালিশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৬ সালে দুটি সংগঠন একীভূত হয়। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় নেতৃত্ব দেওয়ার পর ২০২৩ সালে তিনি রেইনবো-পুশ কোয়ালিশনের সভাপতির পদ ছাড়েন।
বারাক ওবামা-র আগমনের আগে জ্যাকসনই ছিলেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নেতা যিনি হোয়াইট হাউজের খুব কাছাকাছি পৌঁছান। ১৯৮৪ ও ১৯৮৮ সালে তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট মনোনয়নের দৌড়ে অংশ নেন। ১৯৮৪ সালে তিনি প্রায় ৩৩ লাখ ভোট পান। ১৯৮৮ সালে ১১টি রাজ্যে জয়ী হয়ে ৬৮ লাখের বেশি ভোট অর্জন করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার লড়াই পরবর্তী সময়ে ওবামার উত্থানের পথ প্রশস্ত করে। একইভাবে কমলা হ্যারিস-এর মতো নেতাদেরও জাতীয় রাজনীতিতে জায়গা করে নেওয়ার ভিত্তি তৈরি হয়।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিনিধি নির্বাচন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখেন জ্যাকসন। ‘উইনার-টেক-অল’ পদ্ধতির পরিবর্তে সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালুর দাবিতে তার আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বহুত্ববাদে বিশ্বাসী জ্যাকসন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘রামধনু জাতি’ হিসেবে বর্ণনা করতেন। তার মতে, দেশটির শক্তি বিভিন্ন বর্ণ, জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সমান অধিকারের মধ্যেই নিহিত।
রাজনীতির বাইরে ব্যক্তিগত কূটনীতিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। ১৯৮৪ সালে সিরিয়া ও কিউবা থেকে মার্কিন নাগরিকদের মুক্তিতে ভূমিকা রাখেন। ১৯৯০ সালে ইরাকের তৎকালীন নেতা সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তির উদ্যোগ নেন। ১৯৯৯ সালে সার্বিয়া থেকেও তিন মার্কিন নাগরিকের মুক্তিতে সহায়তা করেন।
২০০০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’ প্রদান করেন।
১৯৪১ সালে সাউথ ক্যারোলিনায় জন্ম নেওয়া জেসি জ্যাকসন সারাজীবন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিলেন। জীবনের শেষ সময়েও তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং ২০২০ সালে জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডসহ কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর সহিংসতার নিন্দা জানান।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au