‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ১৯ ফেব্রুয়ারি- প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় অনাচার ও অনিয়মের কোনো সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। জনগণের ভোটে গঠিত নতুন সরকার সব ক্ষেত্রের দুর্নীতি ও অসঙ্গতি দূর করতে বদ্ধপরিকর। বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম ভাষণ।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। শপথ নেওয়ার পর ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে একটি মাফিয়া সিন্ডিকেটের পতন ঘটিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়েই সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও দুর্নীতি দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
দেশবাসীকে পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান, এ মাসকে অতিরিক্ত মুনাফার সময় হিসেবে বিবেচনা না করতে। তিনি বলেন, আত্মশুদ্ধির এই মাসে যেন মানুষের ভোগান্তি না বাড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, সে ব্যাপারেও সতর্ক করেন তিনি।
রোজাদারদের সুবিধার্থে ইফতার, তারাবি ও সেহরির সময় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। অপচয় রোধে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নাগরিকদের কৃচ্ছতা সাধনের আহ্বানও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি, সবার অধিকার সমান। দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্র সবার। তিনি একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শিক্ষা ও দক্ষতার বিকল্প নেই। কর্মসংস্থান ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়েই সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানান তিনি।
দেশে জুয়া ও মাদকের বিস্তারকে আইনশৃঙ্খলা অবনতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। প্রতিটি সাংবিধানিক ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিধিবদ্ধ নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হবে বলে ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজধানী ঢাকায় যানজট ও জনসংখ্যার চাপ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি। সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান। এতে একদিকে নগরকেন্দ্রিক চাপ কমবে, অন্যদিকে পরিবেশেরও উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় সব ব্যবসায়ীর প্রতি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও অভিযোগ শুনতে সরকার প্রস্তুত।
ভাষণের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই এখন সরকারের দায়িত্ব। অঙ্গীকার পূরণের পথে জনগণের অব্যাহত সমর্থন কামনা করেন তিনি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au