আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২০ ফেব্রুয়ারি- বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, টাকা ছাপানো কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং তার সংস্থা এমন কোনো পদক্ষেপকে উৎসাহিত করে না। বৃহস্পতিবার ‘নতুন সরকারের সূচনাবিন্দু: অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পর চেষ্টা করেছেন টাকা না ছাপানোর জন্য, কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোপনভাবে টাকা ছাপানো হয়েছে। পরে সরকারের মুখপাত্রদের মাধ্যমে বলতে বাধ্য হয়েছেন যে, বাংলাদেশ ব্যাংক সত্যিই টাকা ছাপিয়েছে।
ড. ভট্টাচার্য বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিকে এমন পরিস্থিতিতে উত্তরাধিকার সূত্রে পায়, যা বর্তমান সরকারের তুলনায় কিছুটা খারাপ। বিশেষ করে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বর্তমানে ভঙ্গুর। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সরকারের অন্যতম লক্ষ্য ছিল মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। গভর্নর তিন দফা নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করেছেন। এর প্রভাবে ঋণের সুদহার বেড়ে সর্বোচ্চ ১৬-১৭ শতাংশে পৌঁছে গেছে, যা নতুন বিনিয়োগের প্রধান বাধা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
ড. ভট্টাচার্য বলেন, “বাজার বুঝতে পারে টাকা ছাপানো হয়েছে কি না। যদি টাকার বিপরীতে পণ্য উৎপাদন না থাকে, তাহলে মূল্যস্ফীতি বাড়বেই। তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিতে হলে টাকার অতিরিক্ত ছাপানো এড়িয়ে চলতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিতে গলদ ছিল, যার কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।”
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) চেয়ারম্যান তাসকিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘস্থায়ী সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি এবং ১০ শতাংশ নীতি সুদহার বজায় রাখলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে উৎপাদনমুখী কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে, ডিসেম্বরে মাত্র ৬.১ শতাংশ। উচ্চ সুদহারের প্রভাবে ঋণের ব্যয় বেড়ে গেছে। শিল্প সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিনিময় হার জোর করে ধরে রাখার প্রভাবও রপ্তানিতে পড়েছে; গত ছয় মাসে রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে কমে সর্বশেষ ডিসেম্বরে ঋণাত্মক (-১৪.২৫) শতাংশে নেমেছে, যা দেশের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে দুর্বল করছে।
ড. ভট্টাচার্য বলেন, “বর্তমান নীতিতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। নির্বাচিত সরকারের কাছে নীতি সুদহার কমানোসহ বাস্তবভিত্তিক, প্রবৃদ্ধি-বান্ধব মুদ্রানীতি প্রত্যাশা করি। যেখানে রাজস্ব ও মুদ্রা ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উদ্যোগ, নমনীয় তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ভারসাম্য নিশ্চিত করা হবে।”
সিপিডি মনে করছে, ভঙ্গুর সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে নতুন সরকারকে চারটি খাতে পদক্ষেপ নিতে হবে: এক, দ্রব্যমূল্য বা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ; দুই, সুদের হার কমানো; তিন, টাকার মান কিছুটা কমানো; এবং চার, দায়-দেনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ। সবকটি পদক্ষেপ বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতে হবে।
এ প্রসঙ্গে সিপিডির সম্মানিত ফেলো প্রফেসর মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক যদি ডলারের বাজারমূল্য পুরোপুরি বাজারে ছেড়ে দেয় এবং বাজার থেকে ডলার কেনা বন্ধ করে, তাহলে টাকার মান কিছুটা কমবে। তবে এটা খুব বড় ধরনের অবনমন হবে না এবং আমদানীকৃত মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি করবে না। রেমিট্যান্স প্রণোদনা কিছুটা কমানো হলে, টাকার বাজারভিত্তিক মান ধরে রাখা সম্ভব হবে এবং অর্থনৈতিক ঘাটতি পূরণ হবে।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au