অবসরপ্রাপ্ত রয়্যাল নেভির জরিপ জাহাজ এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ, যা এবার বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হচ্ছে। মেরিটাইম এক্সিকিউটিভ
মেলবোর্ন, ২২ ফেব্রুয়ারি: দুই দশক ধরে বিশ্বজুড়ে জলভাগ জরিপ ও সমুদ্রবিজ্ঞান কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা রয়্যাল নেভির অবসরপ্রাপ্ত জরিপ জাহাজ এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে বিক্রি করেছে যুক্তরাজ্য। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাজ্য সরকার এ তথ্য জানায়। ২০২৩ সালের মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেওয়ার পর তিন বছর ধরে জাহাজটি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ছিল। অপ্রকাশিত মূল্যে জাহাজটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে নতুন করে কার্যক্রমে ফিরছে।
জাহাজটি বাংলাদেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্যবহৃত হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি এটি হাইড্রোগ্রাফিক (জলভাগ জরিপ), ওশানোগ্রাফিক (সমুদ্রবিজ্ঞান) ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সক্ষমতা বাড়াবে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও উল্লেখযোগ্য গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০০২ সালে কমিশনপ্রাপ্ত এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ ছিল রয়্যাল নেভির ইকো-শ্রেণির দুটি জরিপ জাহাজের একটি (অপরটি এইচএমএস ইকো)। মূলত জলভাগ জরিপ ও সমুদ্রবিজ্ঞান কার্যক্রমের জন্য নির্মিত হলেও, দুই দশকের অভিযানে এটি বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন মিশন ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে বহুমুখী সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখেছে।
এই দীর্ঘ সময়ে জাহাজটি লক্ষ লক্ষ বর্গমাইল সমুদ্রতল জরিপ করেছে। ২০২২ সালে উত্তর মেরুর সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছানো রয়্যাল নেভির জাহাজ হিসেবে বিরল সম্মান অর্জন করে—উত্তর মেরু থেকে এক হাজার মাইলেরও কম দূরত্বে নোঙর করেছিল এটি। মানবিক সহায়তায়ও জাহাজটির ভূমিকা প্রশংসিত হয়। ২০২০ সালের আগস্টে বৈরুত বন্দরের ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি সহায়তা সামগ্রী পরিবহন করে কয়েক সপ্তাহ ধরে কাজ করে এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ। ৫ লাখ মাইলের বেশি পথ পাড়ি দেওয়ার পর ২০২৩ সালে জাহাজটি অবসর নেয়।
দুই দেশের মধ্যে সরকার-থেকে-সরকার পর্যায়ের চুক্তি স্বাক্ষরের পর জাহাজটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে। এটি ইন্দো-প্যাসিফিক ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার এবং সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও উন্মুক্ত সামুদ্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ অংশীদারত্ব জোরদারের অংশ বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, “এই জরিপ জাহাজের বিক্রি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর আস্থা ও শক্তিশালী সহযোগিতার প্রতিফলন। রয়্যাল নেভিতে গৌরবের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ এখন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন অধ্যায় শুরু করছে—বঙ্গোপসাগরে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির যৌথ অঙ্গীকারকে শক্তিশালী করবে।”
মার্কিন থিঙ্কট্যাঙ্ক ইস্ট-ওয়েস্ট সেন্টারের তথ্যমতে, বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ বাণিজ্য এবং শতভাগ জ্বালানি পরিবহন এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, জলদস্যুতা ও সশস্ত্র ডাকাতি, মানবপাচার, অবৈধ-অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরা (আইইউইউ ফিশিং)সহ নানা নিরাপত্তা হুমকি ক্রমেই বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ যুক্ত হওয়া বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তাৎপর্যপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
– মেরিটাইম এক্সিকিউটিভ