‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন ২২ ফেব্রুয়ারি- ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলার জল্পনা বিশ্ব তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে কড়া অবস্থান নেওয়ায় জ্বালানি তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতি ও মার্কিন ভোক্তাদের ব্যয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ট্রাম্পের দেওয়া ‘১০ দিনের সময়সীমা’র হুঁশিয়ারির পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০ ডলার বেড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে। দ্রব্যমূল্যের চাপ ও আবাসন খাতের মন্দার কারণে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানরা এমনিতেই চাপে রয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানির দাম আরও বাড়লে সাধারণ ভোটারদের অসন্তোষ বাড়তে পারে।
ইরানের কৌশলগত শক্তির অন্যতম উৎস হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। মাত্র ২১ মাইল প্রশস্ত এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রফতানির প্রধান পথ এটি। সম্প্রতি সামরিক মহড়ার কারণে পথটি আংশিকভাবে বন্ধ হলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যায়।
জ্বালানি খাতের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান টর্টয়েজ ক্যাপিটালের পোর্টফোলিও ম্যানেজার রব থামেল সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এমন পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ তেল রফতানি থেকে আয়ের ওপর ইরান নিজেও ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ২ দশমিক ৯২ ডলার। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারে পৌঁছালে পেট্রোলের দাম ৩ ডলার ছাড়াতে পারে। ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, তেলের দাম কমায় সাধারণ মানুষ বছরে ১০০ থেকে ২০০ ডলার সাশ্রয় করেছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, আরোপিত শুল্কের কারণে প্রতিটি মার্কিন পরিবারকে গড়ে ১ হাজার ডলার বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।
ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, ইরান প্রতিদিন গড়ে ৩২ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় ৪ শতাংশ। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেশটি ছাড়মূল্যে তেল রফতানি অব্যাহত রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপে সরবরাহ ব্যাহত হলে এর প্রভাব কেবল ইরানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও সরাসরি নাড়া দিতে পারে।
সুত্রঃ সিএনএন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au