‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন ২৩ ফেব্রুয়ারি- নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের প্রবেশ ও সীমিত কার্যক্রম শুরু করার ঘটনা বাড়ছে। ঢাকা, চাঁদপুর, ঠাকুরগাঁও, সাতক্ষীরা, বরগুনা, পটুয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, শরীয়তপুর, নোয়াখালী, জামালপুর ও রাজবাড়িসহ একাধিক জেলা ও উপজেলায় দলীয় কার্যালয় খোলা বা সেখানে নেতাকর্মীদের উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে।

ছবি: সংগৃহীত
তবে সব জায়গায় পরিস্থিতি একই রকম নয়। কোথাও কোথাও প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের বাধা, ভাঙচুর ও হামলার ঘটনাও ঘটেছে। ময়মনসিংহের তারাকান্দা ও রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় এমন ঘটনার অভিযোগ উঠেছে।
এই তৎপরতার পেছনে কারণ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এটি কি দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় হচ্ছে, নাকি তৃণমূলের নিজস্ব উদ্যোগে? আবার বিএনপি, জামায়াত বা অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে কোনো সমঝোতা রয়েছে কি না, সে নিয়েও আলোচনা চলছে।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ, সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সব ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ ঘোষণা করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির প্রকাশনা, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, সভা-সমাবেশ ও মিছিলসহ সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সহায়তায় কার্যালয় খোলার ঘটনাও সামনে এসেছে। পঞ্চগড়ে একটি কার্যালয়ের তালা খোলার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে স্থানীয় বিএনপি নেতার উপস্থিতি দেখা যায়। তবে সব জায়গায় এমন সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
দলীয় সূত্রের দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়মিত যোগাযোগমাধ্যমে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সক্রিয় থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। ছাত্রলীগের এক কর্মী জানান, গত বছরের আগস্টের পর নিজ জেলায় থাকতে না পারলেও ঢাকায় থেকে তারা ঝটিকা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
,ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা ও সীমিত কার্যক্রমের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, নির্বাচিত সরকার আসার পর দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম পুনরারম্ভের একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীন বলেন, বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত মিলছে। তার মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এখন সরকারের কাছে অগ্রাধিকার পেতে পারে।
সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, নিষেধাজ্ঞার পর দীর্ঘ বিরতির মধ্যে থাকা আওয়ামী লীগ নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নতুন বাস্তবতায় নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে চাইছে। তবে এই তৎপরতা কতটা স্থায়ী হবে এবং আইনি ও রাজনৈতিক বাধা কীভাবে অতিক্রম করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au