চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২৩ ফেব্রুয়ারি- পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে রাজ্যের মানুষের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। চিঠির শুরুতেই তিনি লিখেছেন, “জয় মা কালী”। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই শব্দচয়ন বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
গত কয়েক বছরে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি তীব্র উত্তেজনার মধ্যে পড়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেস-সহ একাধিক রাজনৈতিক দল দাবি করেছিল, এই স্লোগান বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর পাল্টা হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা ‘জয় মা কালী’ স্লোগানকে সামনে আনেন। লোকসভাতেও একাধিক তৃণমূল সাংসদকে এই স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে নির্বাচনী সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে নরেন্দ্র মোদীকেও ‘জয় মা কালী’ বলতে শোনা যায়।

এবার বঙ্গবাসীর উদ্দেশে লেখা চিঠিতেও সেই একই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন তিনি। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “সোনার বাংলার সকল নাগরিক আজ বঞ্চিত। তাঁদের কষ্ট ও যন্ত্রণায় আমার মন ভারাক্রান্ত।” তিনি দাবি করেন, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সুশাসনের ক্ষেত্রে রাজ্যের মানুষ প্রত্যাশিত সুযোগ পাচ্ছেন না।
চিঠির একটি বড় অংশজুড়ে বাংলার ইতিহাস ও মনীষীদের অবদানের কথা উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্বামী বিবেকানন্দ, ঋষি অরবিন্দ ও সুভাষচন্দ্র বসুর অবদান স্মরণ করেন। রাজনৈতিকভাবে এই অংশটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ অতীতে তৃণমূলের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বাংলার মনীষীদের অবদান সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা রাখে না। সেই প্রেক্ষাপটে চিঠিতে বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্যের উল্লেখ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
চিঠিতে তিনি বাংলায় একবার “সেবা” করার সুযোগ চেয়েছেন। পাশাপাশি তোষণের রাজনীতি ও অপশাসনের অভিযোগও তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হবে যাতে কাজের জন্য রাজ্যের যুবকদের অন্য রাজ্যে যেতে না হয়। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
এছাড়া সীমান্তবর্তী রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ রোধের কথা উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করা হবে এবং প্রকৃত শরণার্থীদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চিঠির ভাষা, স্লোগান নির্বাচন এবং বাংলার আবেগ ও ঐতিহ্যকে সামনে আনা—সব মিলিয়ে এটি শুধু একটি রাজনৈতিক আবেদন নয়, বরং ভোটের আগে রাজ্যের মানুষের মন জয় করার সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au