ইনস্টাগ্রামের প্রধান আডাম মোসেরি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এক মামলায় আদালতে জবানবন্দি দিয়ে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ক্লিনিক্যালি আসক্ত’ হওয়া সম্ভব নয়। ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৪ ফেব্রুয়ারি- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আদৌ আসক্তিকর কি না, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান এক মামলায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন ইনস্টাগ্রামের প্রধান আডাম মোসেরি। আদালতে জবানবন্দি দিয়ে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ক্লিনিক্যালি আসক্ত’ হওয়া সম্ভব নয়। কেউ প্ল্যাটফর্ম ‘সমস্যাজনক হারে ব্যবহার’ করতে পারেন, কিন্তু সেটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে আসক্তি বলা ঠিক হবে না।
মোসেরি জানান, ব্যবহারের মাত্রা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হয়। কেউ দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে পারেন, আবার কেউ তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। তার ভাষায়, অতিরিক্ত ব্যবহার উদ্বেগের কারণ হতে পারে, তবে সেটিকে সরাসরি আসক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।
মামলাটিতে বাদী ২০ বছর বয়সী এক তরুণী, যাকে আদালতে ‘কেলি’ নামে উল্লেখ করা হচ্ছে। তার অভিযোগ, মেটা কিশোরদের দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন ফিচার তৈরি করেছে, যা আসক্তি তৈরি করে এবং তার মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবীরা প্রশ্ন তোলেন, মুনাফার স্বার্থে কিশোরদের লক্ষ্য করে কি এই নকশা করা হয়েছে। মোসেরি তা অস্বীকার করে বলেন, কিশোর ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে তুলনামূলক কম আয় হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পণ্যের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ প্রভাব ফেলে না।
আদালতে বাদীপক্ষ উল্লেখ করে, ‘ইনফিনিট স্ক্রল’, ‘অটোপ্লে’, ‘লাইক’ বাটন এবং ‘বিউটি ফিল্টার’–এর মতো ফিচার কিশোরদের দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাপে আটকে রাখে। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, বাদী একদিনে ১৬ ঘণ্টার বেশি ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করেছেন। এ প্রসঙ্গে মোসেরি বলেন, এমন ব্যবহার অবশ্যই সমস্যাজনক হতে পারে, তবে সেটি প্ল্যাটফর্মের নকশাগত আসক্তির প্রমাণ নয়।
জবানবন্দিতে নিজের পারিশ্রমিক সম্পর্কেও তথ্য দেন মোসেরি। তার মূল বেতন বছরে প্রায় ৯ লাখ ডলার, আর বোনাস ও শেয়ার মিলিয়ে মোট আয় ১ থেকে ২ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে। তবে তিনি দাবি করেন, কোম্পানির শেয়ারের মূল্য বা ব্যক্তিগত লাভের বিষয়টি পণ্যের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে না।
মেটার পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়েছে, বাদীর মানসিক স্বাস্থ্যের পেছনে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জটিলতাও ছিল এবং প্ল্যাটফর্মকে এককভাবে দায়ী করা যায় না। মামলাটি এখন জুরি বোর্ডের বিবেচনায় রয়েছে।
এই মামলার মাধ্যমে আবারও সামনে এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যে কতটা প্রভাব ফেলে এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর দায়বদ্ধতার সীমা কোথায়— সেই বিতর্ক।