মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ২৪ ফেব্রুয়ারি- কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়–এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মহল। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিবেচনায় এবং ৫০ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে তার নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই ক্যাম্পাসে অস্থিরতা বেড়েছে এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।
গত ২ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে তিনি উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়–এর কীটতত্ত্ব বিভাগে অধ্যাপক ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
অর্ধ কোটি টাকার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক সুপারিশের ভিত্তিতে তাঁকে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, নিয়োগের পর থেকে প্রশাসনিকভাবে পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এবং এতে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। কিছু শিক্ষক-শিক্ষার্থী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ওটিএন বাংলার অনুসন্ধানে জানা যায়, অধ্যাপক ড. এ কে এম জাকির হোসেন কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য (ভিসি) ছিলেন। তিনি ৮ মে ২০২২-এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসিদের পদত্যাগের দাবি ওঠে। সেই সময় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম জাকির হোসেনের পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন, কুড়িগ্রামে তার পদত্যাগের দাবি নিয়ে বিভিন্ন আন্দোলনের সমন্বয় করেছিলেন কুড়িগ্রাম-২ আসনের বর্তমান নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা আতিক মুজাহিদ।
সেসময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন আন্দোলনে ঢাকা থেকে এবং নিজে উপস্থিত থেকে নির্দেশনা ও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে পুরাতন ভিসিকে অপসারণ ও নতুন জামায়াতপন্থী শিক্ষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলামের নিয়োগের ব্যাপারে ৫০ লাখ টাকার একটি চুক্তি হয় সেই আন্দোলনকারী গ্রুপের সাথে।

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবিঃ সংগৃহীত
কথিত আছে, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলামের দেয়া টাকা দিয়েই আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন আন্দোলন সংঘটিত করতেন। তাদের সমন্বয়ক আতিক মুজাহিদ বৈষম্যবিরোধী নেতা পরিচয়ে ঢাকায় বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে ঘুরে আগের উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল করে নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলামকে নিয়োগ দিতে সুপারিশ করেন।
পাশাপাশি, ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরাও জামায়াতপন্থি বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, উপাচার্যের আদর্শিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁরা অবিলম্বে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন।
অতীত কর্মজীবন নিয়ে বিতর্ক
অধ্যাপক রাশেদুল ইসলামের পূর্ববর্তী কর্মস্থল শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর কর্মজীবন নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা ছুটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে দেশে ফেরেননি। দীর্ঘ সময় অননুমোদিতভাবে বিদেশে অবস্থানের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে। পরে তিনি দেশে ফিরে যোগদান করেন।
সে সময় তাঁর প্রায় এক বছর ১১ মাস ১৫ দিনের অননুমোদিত অনুপস্থিতির বিষয়টি আলোচনায় আসে। বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট নাকি মানবিক বিবেচনায় চাকরির ধারাবাহিকতা বহাল রেখে ওই সময়কে বেতনবিহীন ছুটি হিসেবে গণ্য করে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে পদোন্নতি ও আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। তাঁর পিএইচডি থিসিস নিয়েও একসময় প্রশ্ন উঠেছিল বলে অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।
অধ্যাপক রাশেদুল ইসলামের শিক্ষা ছুটি সংক্রান্ত আপত্তির নিষ্পত্তি না করেই তাঁকে অধ্যাপক পদে উন্নীত করা হয়েছে- এমন অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক শিক্ষক। তাঁদের দাবি, এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যেসব প্রশ্ন ও অসংগতি তুলে ধরা হয়েছিল, সেগুলোর চূড়ান্ত মীমাংসা না করেই পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা ছুটিতে বিদেশে অবস্থানকালে তিনি বিভাগীয় দায়িত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। বলা হচ্ছে, ছুটিতে থাকা অবস্থায় তিনি গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করেছেন, অনলাইনে ভিজিটিং শিক্ষক হিসেবে ক্লাস নিয়েছেন এবং পিএইচডি শিক্ষার্থীদের গবেষণা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই সময়ে গবেষণা সংক্রান্ত বেঞ্চমানি বা বিভাগীয় প্রাপ্য অর্থ বিভাগে জমা দেওয়া হয়নি।
প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান থাকার পাশাপাশি তিনি ছাত্র উপদেষ্টার দায়িত্বও গ্রহণ করেন, যা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়। একই সময়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নেওয়াকে অনেকেই প্রশাসনিক ভারসাম্যের পরিপন্থি বলে মনে করছেন।
সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তাঁর স্ত্রীকে উদ্যানতত্ত্ব বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে উপাচার্যের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও এ নিয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত স্বচ্ছ তদন্ত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। অন্যথায় প্রশাসনিক অচলাবস্থা ও অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au