আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারি- বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। গত ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকটি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচিতিমূলক হলেও, আলোচনায় উঠে আসে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশনা, সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ এবং সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো।

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা ও বাংলাদেশের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। ছবিঃ সংগৃহীত
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন হাইকমিশনার। তিনি জানান, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন বার্তা পাঠান। একই দিন দুই নেতার মধ্যে টেলিফোনে কথোপকথন হয়। ওই আলাপে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হাইকমিশনার আরও জানান, ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে লোকসভার স্পিকার ঢাকা সফর করেন। শপথ অনুষ্ঠান শেষে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির পাঠানো একটি বিশেষ বার্তা হস্তান্তর করেন। এতে দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধন ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরা হয়।
প্রণয় ভার্মা বলেন, সাম্প্রতিক সব যোগাযোগেই ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভারত একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ দেখতে চায় এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত।
আজকের বৈঠকে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ভারতের অবস্থান পুনরায় তুলে ধরেন। দুই দেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ক—বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনসম্পৃক্ততা—আরও সম্প্রসারণে ভারত কাজ করতে চায় বলে জানান তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হাইকমিশনারের বৈঠক। ছবিঃ সংগৃহীত
হাইকমিশনার বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও লাভের ভিত্তিতে ইতিবাচক ও গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে সীমান্ত সংযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোতে সহযোগিতা বাড়ানো যেতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুই দেশের সম্পর্ক কেবল সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কই এ বন্ধনের ভিত্তি। তাই সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে সামনে রেখে সহযোগিতা জোরদার করাই এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশও পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও আস্থার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী। নতুন সরকারের অধীনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au