“অস্ট্রেলিয়াতেই থাকো, দেশে ফিরলে তারা তোমাকে মেরে ফেলবে”
মেলবোর্ন ১১ মার্চ: অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চাওয়া ইরানের নারী ফুটবল দলের সাত সদস্যের হাসিমাখা ছবি দেখলে মনে হতে পারে তারা স্বস্তিতে আছেন। কিন্তু বাস্তবে তাদের পরিস্থিতি…
মেলবোর্ন, ২৬ ফেব্রুয়ারি- বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ২০২৫ সালে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রেকর্ড ১২৯ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের প্রাণহানির নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। নিহতদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের মৃত্যু হয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অভিযানে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে ৮৬ জন সাংবাদিক নিহত হন। তাঁদের অধিকাংশই গাজার ফিলিস্তিনি সাংবাদিক। একই সঙ্গে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের পরিচালিত একটি গণমাধ্যম কার্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় ৩১ জন গণমাধ্যমকর্মী প্রাণ হারান। সিপিজে জানায়, সাংবাদিকদের হতাহতের হিসাব রাখা শুরুর পর এটি ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রাণঘাতী একক হামলার ঘটনা।
সিপিজে যে ৪৭টি ঘটনাকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করে হত্যা হিসেবে নথিভুক্ত করেছে, তার ৮১ শতাংশের জন্যও ইসরায়েল দায়ী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গাজায় প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংস্থাটি মনে করে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অতীতে তারা বলেছে, গাজায় অভিযান চালানোর সময় কেবল সশস্ত্র যোদ্ধাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করতে গেলে ঝুঁকি থাকেই।
ইসরায়েল গত সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের একটি গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলার দায় স্বীকার করে সেটিকে হুথিদের প্রচারণা শাখা হিসেবে বর্ণনা করেছিল। অন্যদিকে গাজায় নিহত কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে হামাসের যোগাযোগ ছিল বলে ইসরায়েল দাবি করলেও তার পক্ষে যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলেছে, নিহত সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই। সিপিজে ইসরায়েলের এ ধরনের অভিযোগকে ‘ভয়াবহ অপবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
গাজায় বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি না থাকায় সেখানে নিহত সব গণমাধ্যমকর্মীই ছিলেন ফিলিস্তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে কোনো দেশের সামরিক বাহিনীর তুলনায় ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে সর্বোচ্চসংখ্যক লক্ষ্যভিত্তিক সাংবাদিক হত্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তিন দশকের বেশি সময় ধরে সিপিজে বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার তথ্য সংগ্রহ করে আসছে।
নিহত ১২৯ জনের মধ্যে অন্তত ১০৪ জন সংঘাত-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। গাজা ও ইয়েমেনের বাইরে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সুদান, যেখানে ৯ জন নিহত হয়েছেন। মেক্সিকোতে প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন।
এছাড়া ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর হাতে চারজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন এবং ফিলিপাইনে তিনজন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। উল্টো তারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলেছে, যা কিয়েভ অস্বীকার করেছে।
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রাশিয়ার দূতাবাসের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au