আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২৬ ফেব্রুয়ারি- আজ বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ–এর ৯০তম জন্মবার্ষিকী। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের জন্য তিনি দেশের সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ অর্জন করেন। দিনটি উপলক্ষে তাঁর জন্মভূমিসহ বিভিন্ন স্থানে স্মরণ ও শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার গোয়ালহাটি ও ছুটিপুর এলাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন তিনি। সেদিন নিজের সহযোদ্ধাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে গিয়ে শত্রুর গুলিতে গুরুতর আহত হন। তবু পিছু হটেননি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে তিনি শহীদ হন। তাঁর এই আত্মত্যাগ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
নূর মোহাম্মদ শেখের বাবা মোহাম্মদ আমানত শেখ এবং মা জেন্নাতুন্নেছা, মতান্তরে জেন্নাতা খানম। অল্প বয়সেই তিনি বাবা–মাকে হারান। প্রতিকূলতার মধ্যেও সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। ১৯৫৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর) যোগ দেন, যা বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ নামে পরিচিত। দীর্ঘ সময় দিনাজপুর সীমান্তে দায়িত্ব পালন করার পর ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই তিনি যশোর সেক্টরে বদলি হন। দায়িত্ব পালনে দক্ষতা ও সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে পরবর্তীতে ল্যান্স নায়েক পদে পদোন্নতি পান।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮ নম্বর সেক্টরের অধীনে যুদ্ধে অংশ নেন তিনি। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী এবং সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন মেজর এস এ মঞ্জুর। নূর মোহাম্মদ শার্শা উপজেলার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। সীমান্তবর্তী ওই এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর শক্ত অবস্থানের বিরুদ্ধে লড়াই করে মুক্তিযোদ্ধারা গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেন, যেখানে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সাহসী ও তাৎপর্যপূর্ণ।
তাঁর স্মৃতিকে অম্লান রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০০৮ সালের ১৮ মার্চ তাঁর নামে মহিষখোলা গ্রামের নাম পরিবর্তন করে ‘নূর মোহাম্মদনগর’ রাখা হয়। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা ও সড়কের নামেও তাঁর নাম সংযুক্ত করা হয়েছে।
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের জীবন সংগ্রাম, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে আছে। তাঁর জন্মদিনে জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে এই অকুতোভয় বীরকে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au