তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ।ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৭ ফেব্রুয়ারি- পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলাকে ‘অমার্জনীয়’ আখ্যা দিয়ে এর জবাবে সামরিক প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, পাকিস্তানের হামলার জবাব দেওয়া হবে এবং আফগানিস্তান এ ধরনের পদক্ষেপের পুনরাবৃত্তি মেনে নেবে না।
তিনি বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে ইসলামি দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যাতে তারা আফগানিস্তানের ওপর পাকিস্তানের হামলা ঠেকাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। তার ভাষায়, আঞ্চলিক ও ইসলামি দেশগুলোর উচিত তাদের দায়িত্ব বোঝা এবং পাকিস্তানকে নীতি পরিবর্তনে উৎসাহিত করা। আফগানিস্তান ও পাকিস্তান দুটি প্রতিবেশী দেশ, যাদের মধ্যে বহু অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সঙ্গে আফগানিস্তানের কোনো সম্পর্ক নেই। ইসলামাবাদের উচিত নিজেদের সমস্যার সমাধান করা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও ক্ষতিগ্রস্ত করা থেকে বিরত থাকা। তা না হলে দুই দেশ ও সমগ্র অঞ্চলের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।
আফগানিস্তানে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি–এর উপস্থিতির অভিযোগও নাকচ করেছেন তিনি। তার দাবি, টিটিপি পাকিস্তানের ভেতরেই বিস্তীর্ণ এলাকায় সক্রিয় এবং তাদের আফগান ভূখণ্ড ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। পাকিস্তান তাদের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, পাকিস্তানের ভেতরে কোনো হামলা ঘটলেই প্রমাণ ছাড়াই আফগানিস্তানকে দায়ী করা হয়, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
সামরিক বিশ্লেষক হাদি কুরেশির মতে, আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। তার মতে, টিটিপি ইস্যু পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার সময় প্রতিবেশী দেশের স্থিতিশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত।
এদিকে পাকিস্তান তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণার কথা জানিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি এবং এখন এটি দুই দেশের মধ্যে প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগান বাহিনীর আক্রমণের পর পাকিস্তান এই ঘোষণা দেয়। এর আগে গত অক্টোবর মাসে একাধিক প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর দুই পক্ষ একটি নাজুক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে এরপরও সীমান্তে দফায় দফায় উত্তেজনা অব্যাহত ছিল।
সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা ও কঠোর বক্তব্য সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ না নিলে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে।
সূত্র: বিবিসি