টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ
মেলবোর্ন, ১১ মার্চ- পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আজ টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডেতে দুই স্পিনার ও তিন পেসার…
মেলবোর্ন, ১১ মার্চ- অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় প্রার্থনা করা ইরানের নারী ফুটবল দলের সাত সদস্যের হাসিমুখের ছবিগুলো বাইরে থেকে আনন্দের গল্প বললেও বাস্তবে তাদের পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল ও উদ্বেগপূর্ণ। এই জটিলতারই আরেকটি দিক সামনে এসেছে, যখন আশ্রয় চাওয়া সাতজনের একজন শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলে ইরানে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
গত দেড় সপ্তাহ ধরে অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে অনুষ্ঠিত নারী এশিয়া কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছিল ইরানের নারী দল। এ সময় খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সোমবার রাতে দলের পাঁচজন খেলোয়াড় তাদের তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদের নজর এড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় চান। পরে আরও একজন খেলোয়াড় এবং দলের এক স্টাফ মানবিক ভিসা পান। তবে এদের মধ্যেই একজন খেলোয়াড় পরবর্তীতে মত বদলে ইরানে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
মঙ্গলবার রাতে সিডনি বিমানবন্দরে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরগামী বিমানে ওঠার আগে দলের সদস্যদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন।
ইরানীয় বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় নাগরিক ডেনিজ তৌপচি জানান, সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়টি প্রথমে অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার কথা ভাবলেও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কারণে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। খেলোয়াড়টির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
গণমাধ্যম জানিয়েছে, খেলোয়াড়টির মায়ের একটি ভয়েস বার্তা ইরানীয়-অস্ট্রেলীয় সম্প্রদায়ের এক সদস্যের কাছে পৌঁছেছে। সেই বার্তায় মা মেয়েকে সতর্ক করে বলেন, “ফিরে এসো না… তারা তোমাকে মেরে ফেলবে।”
ডেনিজ তৌপচির দাবি, খেলোয়াড়টি প্রথমে অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সিদ্ধান্ত নিলেও শেষ মুহূর্তে চাপের মুখে কুয়ালালামপুরগামী বিমানে উঠে যান। তার অভিযোগ, দলের একজন স্টাফ সদস্য, যিনি ইরানের সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা হচ্ছে, খেলোয়াড়দের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।
তার মতে, ইরানের কর্মকর্তারা খেলোয়াড়দের বলছিলেন তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং সে কারণেই দেশে ফিরে যেতে হবে। তৌপচি বলেন, এমন বার্তার অর্থ অনেক সময় হয় পরিবারকে কার্যত জিম্মি করে রাখা হয়েছে এবং সেই চাপেই খেলোয়াড়দের দেশে ফিরতে বাধ্য করা হচ্ছে।
লন্ডনভিত্তিক ফারসি ভাষার সংবাদমাধ্যমের ক্রীড়া সাংবাদিক রাহা পুরবখশ জানান, অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকালে তিনি অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, খেলোয়াড়রা ভীষণ উদ্বিগ্ন, ক্লান্ত এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। তাদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা এখন ইরানে থাকা পরিবারকে ঘিরে।
তিনি বলেন, খেলোয়াড়রা অস্ট্রেলিয়ায় আসার আগেই তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। তাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক জামানত নেওয়া হয়েছিল এবং পরিবার ও খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এমনকি পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করারও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তার মতে, কেউ কেউ পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে ইরানে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আবার কেউ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন। এই দুই সিদ্ধান্তের কোনোটিকেই বিচার করা ঠিক নয়।
এদিকে ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, খেলোয়াড়দের আশ্রয় চাইতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। তার অভিযোগ, সিডনি বিমানবন্দরে অস্ট্রেলীয় পুলিশ দলটির সদস্যদের আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং আশ্রয় নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক অবশ্য বলেছেন, বিমানবন্দরে দলের সদস্যদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলা হলেও কাউকে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয়নি। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া কাউকে জোর করে আশ্রয় নিতে বাধ্য করে না।
ইরান ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়া খেলোয়াড়দের উদ্দেশে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় একটি সতর্কবার্তা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পরিবারের উদ্বেগ দূর করতে খেলোয়াড়দের দেশে ফিরে আসা উচিত। একই সঙ্গে তাদের আশ্রয় প্রার্থনাকে ‘শত্রুপক্ষের ষড়যন্ত্র’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
পটভূমিতে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও দমন-পীড়নের ঘটনা। গত কয়েক মাসে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্রীড়া অঙ্গনের কিছু ব্যক্তিও সেই সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ক্রীড়া সাংবাদিক রাহা পুরবখশ জানান, জাতীয় দলের দুই খেলোয়াড় জাহরা আলিজাদেহ ও কাওসার কামালি বিক্ষোভে নিহতদের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে দল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। এরপর যেকোনো ধরনের প্রতিবাদ বা প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়ার জন্য কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে অনেককে।
এ পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। যারা দেশে ফিরছেন, তাদের জন্যও পরিস্থিতি কী হবে তা স্পষ্ট নয়। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা তুরস্ক হয়ে স্থলপথে ইরানে ফিরে যেতে পারেন। ফলে পুরো বিষয়টি এখনো অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যেই রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au