ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে গ্রেপ্তার ৪, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চারজন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আদালতে…
মেলবোর্ন, ২৮ ফেব্রুয়ারি- বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো ঘোষণা হয়নি। তার আগেই রাজ্য রাজনীতিতে নির্বাচনী আবহ তৈরি করতে বড় কর্মসূচির ডাক দিল ভারতীয় জনতা পার্টি। দল ঘোষণা করেছে রাজ্য জুড়ে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ আয়োজনের। এই কর্মসূচির আওতায় থাকবে মোট ৬০টি বড় জনসভা এবং প্রায় ৩০০টি ছোট সভা। লক্ষ্য, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে এই যাত্রাকে নিয়ে যাওয়া।
কলকাতা হাইকোর্ট শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দেওয়ার পর রাজ্য নেতৃত্ব সাংবাদিক বৈঠকে বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরে। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সাংসদ সুকান্ত মজুমদার এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে প্রকাশ করা হয় যাত্রার প্রচারচিত্র।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মোট ৯টি পৃথক যাত্রা আয়োজন করা হয়েছে। ১ ও ২ মার্চ থেকে শুরু হবে কর্মসূচি। প্রথম দিনে কোচবিহার দক্ষিণ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, কুলটি, গড়বেতা ও রায়দিঘি থেকে যাত্রা শুরু হবে। ২ মার্চ ইসলামপুর, সন্দেশখালি, হাসান ও আমতা থেকেও আরও চারটি যাত্রা বেরোবে।
দোল উৎসবের কারণে ৩ ও ৪ মার্চ কোনো কর্মসূচি রাখা হয়নি। ৫ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার লক্ষ্য নিয়েছে দল। বৃহত্তর কলকাতার ২৯টি বিধানসভা এলাকায় আলাদা করে শোভাযাত্রার গাড়ি বের করার কথাও জানানো হয়েছে।
সাংবাদিক বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, রাজ্যে কার্যত কোনো কার্যকর সরকার নেই। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসন রাজ্যের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট করেছে এবং সরকারি চাকরি বিক্রির মতো দুর্নীতি ঘটেছে। দুর্নীতি এখন শাসকদলের সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই কর্মসূচিকে তিনি সর্বস্তরের মানুষের আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর আহ্বান, শুধু দলের সমর্থক নয়, অন্য দলের হতাশ কর্মী-সমর্থকেরাও যেন এই যাত্রায় অংশ নেন।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য বহু ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাস বেড়েছে। দেশজুড়ে ধরা পড়া জঙ্গিদের ভোটার পরিচয়পত্র এই রাজ্যে তৈরি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় না হলে জাতীয় রাজনীতির লড়াই সম্পূর্ণ হবে না।
সুকান্ত মজুমদার বলেন, এই যাত্রা শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, পরিবর্তনের দাবিতে মানুষের মনের প্রতিফলন। ভোট দেওয়া এবং ভোট গণনা নিয়ে মানুষের মধ্যে যে সংশয় রয়েছে, তা দূর করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যাত্রার সমাপ্তি উপলক্ষে কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একটি বড় সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। মার্চের মাঝামাঝি কয়েকটি সম্ভাব্য তারিখ প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়েছে। যাত্রা শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই এই সভা করতে চায় রাজ্য নেতৃত্ব।
কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, যাত্রায় একসঙ্গে এক হাজারের বেশি মানুষের জমায়েত করা যাবে না। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে এবং শব্দ সংক্রান্ত সব আইন কঠোরভাবে মানতে হবে।
বক্তব্যের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জারি করেছে আদালত। কুরুচিকর বা উত্তেজনামূলক মন্তব্য করা যাবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে এমন কোনো কার্যকলাপ থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করার কথা বলা হয়েছে। অন্তত ২০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম ও যোগাযোগের তথ্য আগেভাগে পুলিশকে জানাতে হবে। সরকারি, বেসরকারি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষতি হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকেই নিতে হবে বলেও আদালত স্পষ্ট করেছে।
নির্বাচনের আগে এই কর্মসূচি রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার। তবে ভোট ঘোষণার আগেই রাজ্যে যে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে, তা স্পষ্ট।
সূত্রঃ দ্য ওয়াল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au