অস্ট্রেলিয়া

খামেনি নিহতের পর অস্ট্রেলিয়ায় ইরানিদের উদ্‌যাপন

ক্যানবেরা, সিডনি ও মেলবোর্নে রাস্তায় নেমে আনন্দ মিছিল

  • 7:58 pm - March 01, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২১৮ বার
খামেনির মৃত্যুতে “স্বস্তির অনুভূতি” প্রকাশ করেন অস্ট্রেলিয়ান ইরানিয়ান কমিউনিটি।

মেলবোর্ন, ১ মার্চ: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে বসবাসরত ইরানিরা রাস্তায় নেমে উদ্‌যাপন করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম রোববার (AEDT) নিশ্চিত করে যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হয়েছেন। একই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানানো হয়।

অস্ট্রেলিয়া সরকার যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-কে সন্ত্রাসে সম্পৃক্ত সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, সেই বাহিনী “ধ্বংসাত্মক প্রতিশোধমূলক হামলার” হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

ক্যানবেরায় ইরানি দূতাবাসের সামনে খামেনিবিরোধীরা সমাবেশ করেন। তারা বিপ্লব-পূর্ব ‘লায়ন অ্যান্ড সান’ পতাকা, পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকা বহন করেন। পরে শহরের কেন্দ্রস্থলে জড়ো হয়ে অনেকে গান ও নৃত্যের মাধ্যমে প্রতিবাদী আনন্দ প্রকাশ করেন।

আয়োজকদের ভাষ্য, “এই বিশাল গণজাগরণ স্পষ্ট করে দিয়েছে—ইরানের মানুষ আর কোনো স্বৈরশাসন চায় না; না সর্বোচ্চ নেতা, না শাহ—তারা চায় একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র।”

সিডনি ও মেলবোর্নসহ অন্যান্য শহরেও অনুরূপ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অস্ট্রেলিয়ান ইরানিয়ান কমিউনিটি অ্যালায়েন্সের সহ-সভাপতি সুরেন এডগার বলেন, খামেনির মৃত্যু লাখো ইরানির কাছে “স্বস্তির অনুভূতি” বয়ে আনবে।

তিনি বলেন, “আলি খামেনির নিশ্চিত মৃত্যু একটি যুগের অবসান, যে যুগ ছিল দমন-পীড়ন, মৃত্যুদণ্ড, সেন্সরশিপ ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতায় চিহ্নিত। বহু ইরানির কাছে এটি স্বস্তির মুহূর্ত।”

৩৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা খামেনির শাসনামলে কড়াকড়ি নাগরিক বিধিনিষেধ, বিক্ষোভ দমন এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ছিল আলোচিত বিষয়। তার পররাষ্ট্রনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থনের অভিযোগও রয়েছে।

রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, “আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুতে কেউ শোক করবে না। অস্ট্রেলিয়া ইরানের সাহসী জনগণের পাশে আছে, যারা একটি নিপীড়নমূলক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে।”

তিনি আরও বলেন, “খামেনি ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি, সশস্ত্র প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন এবং নিজ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শনের জন্য দায়ী ছিলেন। তার মৃত্যু শোকের কারণ হবে না।”

– news.com.au

এই শাখার আরও খবর

দীর্ঘ সময় ইতালির ক্ষমতায় থাকা মেলোনিকে মোদির শুভেচ্ছা, কী ছিল বার্তায়?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালির সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছেন জর্জিয়া মেলোনি। এই সাফল্যে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র…

বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ: জাতিসংঘ

জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ এবং বাণিজ্যিক অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত আগস্টে আন্তর্জাতিক খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচক বেড়ে ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে…

অটো পাইলট মোডে মহাসড়কের মাঝখানে থেমে যায় টেসলা, পেছন থেকে ট্রাকের ধাক্কায় চালক নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় গভীর রাতে ব্যস্ত মহাসড়কের মাঝখানে একটি টেসলা গাড়ি হঠাৎ সম্পূর্ণ থেমে যাওয়ার পর পেছন থেকে আসা বিশালাকৃতির ফোর্ড এফ-৩৫০ পিকআপ ট্রাকের ধাক্কায় গাড়িটির…

বন্ডাই সন্ত্রাসী হামলার আগে ইহুদিবিদ্বেষের হুমকি অবমূল্যায়িত হয়েছিল: মাইক বার্জেস

সিডনি: বন্ডাই সন্ত্রাসী হামলার আগে অস্ট্রেলিয়ায় ক্রমবর্ধমান ইহুদিবিদ্বেষের ভয়াবহতা নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারেননি বলে মন্তব্য করেছেন অস্ট্রেলিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশনের (এএসআইও) মহাপরিচালক মাইক…

মাদরাসায় সাত বছরের শিশুকে ছয় মাস ধরে বলাৎকার করছিলেন ৬জন

সাভার পৌর এলাকার শাহীবাগ মহল্লার মারকাযুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ মাদরাসায় সাত বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে প্রায় ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে বলাৎকার ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ…

বাংলাদেশে পানির লবণাক্ততা: নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকিতে উপকূলের মানুষ

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ পানীয় জল দিন দিন দুর্লভ হয়ে উঠছে। জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলোচ্ছ্বাস ও নদীপথে লবণাক্ত পানি প্রবেশের কারণে উপকূলের বিস্তীর্ণ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au