আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৪ মার্চ- জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে দেশের ৫৬টি তফসিলি ব্যাংক এবং বিভিন্ন নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ–সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়।
ব্যাংকগুলোকে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে আসিফ মাহমুদের ব্যক্তিগত হিসাবসংক্রান্ত সব তথ্য সংগ্রহ করে তা বিএফআইইউতে জমা দিতে হবে। তার নামে পরিচালিত অ্যাকাউন্ট, লেনদেনের বিবরণী, স্থায়ী আমানত, ঋণ বা অন্য কোনো আর্থিক সম্পৃক্ততা থাকলে সেসব তথ্যও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে।
ছাত্রজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি হিসেবে পরিচিতি পান আসিফ মাহমুদ। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দেওয়া সমন্বয়কদের অন্যতম ছিলেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান আসিফ মাহমুদ। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়।
উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিলাসী জীবনযাপনের অভিযোগে একাধিকবার সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে নিজ এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে উপদেষ্টার পদ ব্যবহার করার অভিযোগও ওঠে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে এলাকায় তার বিরুদ্ধে আন্দোলন ও বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। সে সময় গুঞ্জন ওঠে, ঢাকা–১০ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। কিছুদিন ওই এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা চালালেও শেষ পর্যন্ত তিনি সরাসরি নির্বাচনে না নেমে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র হিসেবে দলের নির্বাচনী কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব নেন।
তার ব্যাংক হিসাব তলবের পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা তদন্তের বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিএফআইইউ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের এই পদক্ষেপ নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।