সংযুক্ত আরব আমিরাতের আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রিম আল হাশিমি। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৪ মার্চ- সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। দেশটির আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রিম আল হাশিমি এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিফিংয়ে রিম আল হাশিমি জোর দিয়ে বলেন, শুরু থেকেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান পরিষ্কার। ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক হামলার ক্ষেত্রে তাদের মাটি ব্যবহার করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত আত্মরক্ষা এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পূর্ণ ও বৈধ অধিকার সংরক্ষণ করে।
আল হাশিমির দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘোষিত অবস্থান বিবেচনায় না নিয়েই ইরান তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো সামরিক উত্তেজনা এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরানে তাদের দূতাবাস বন্ধ করার এবং রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, ইরানি হামলা অযৌক্তিক।
রিম আল হাশিমি আরও বলেন, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং জনজীবনে বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়েনি। তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে চায় না।
এদিকে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় দূতাবাস জানিয়েছে, দাহরান এলাকায় ড্রোন বা মানববিহীন আকাশযান হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় কাউকে মার্কিন কনস্যুলেটে না আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার ভোরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে। ঘটনার পর দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সব নিয়মিত ও জরুরি কনস্যুলার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি জানানো হবে।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সূত্রঃ গালফ নিউজ