প্রবাসী আয় কমলে কী করবেন, আগাম সঞ্চয়েই স্বস্তির পথ , ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৪ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা ঘিরে প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে দেশের বহু পরিবারের মাসিক বাজেট চাপে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেমিট্যান্সে সামান্য ওঠানামাও যেসব পরিবার পুরোপুরি প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই এখনই বিকল্প সঞ্চয় ও জরুরি তহবিল গঠনের মতো প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশ ব্যাংক–এর তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে বিভিন্ন সময়ে প্রবাসী আয় কমবেশি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থান, মজুরি বা কর্মঘণ্টা কমে গেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশে থাকা পরিবারের নগদ প্রবাহে। যেসব পরিবারে একমাত্র উপার্জনকারী বিদেশে কর্মরত, তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, আয় স্বাভাবিক থাকলেও আগেভাগে পরিকল্পনা থাকলে সম্ভাব্য আর্থিক ধাক্কা সামাল দেওয়া সহজ হয়। সে ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পরিবারের স্থায়ী ও অস্থায়ী ব্যয় আলাদা করা উচিত। বাড়িভাড়া, সন্তানের শিক্ষা, চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ অগ্রাধিকার পাবে। অন্যদিকে ভ্রমণ, উৎসব বা অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা সাময়িকভাবে কমানো যেতে পারে। অন্তত তিন মাসের ন্যূনতম ব্যয়ের হিসাব আগে থেকে করে রাখা দরকার।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কখন স্থিতিশীল হবে, তার নিশ্চয়তা নেই। তাই তিন থেকে ছয় মাসের সমপরিমাণ ব্যয় জমানোর লক্ষ্য নির্ধারণের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা। একবারে সম্ভব না হলে প্রবাসী আয়ের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ আলাদা হিসাবে রাখা যেতে পারে। আলাদা ব্যাংক হিসাব বা স্বল্পমেয়াদি সঞ্চয়পত্রে রাখলে খরচ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো পরিবার যদি মাসে ৫০ হাজার টাকা প্রবাসী আয় পায় এবং তাদের ন্যূনতম মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার টাকা হয়, তবে অন্তত এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা জরুরি তহবিল লক্ষ্য ধরা যেতে পারে। প্রতি মাসে সাত হাজার টাকা সঞ্চয় করলে এক বছরে সে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।
পরিবারের অন্য সদস্যদের আংশিক আয়ের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। ঘরে বসে কাজ, ছোট ব্যবসা বা দক্ষতাভিত্তিক সেবা যুক্ত হলে সামান্য আয়ও মাসিক ঘাটতি সামাল দিতে সহায়ক হবে।
উচ্চ সুদের ব্যক্তিগত ঋণ বা ক্রেডিট কার্ডের দায় থাকলে সেটি দ্রুত কমানোর পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। সুদের বোঝা কমলে নগদ প্রবাহে স্বস্তি আসে এবং অনিশ্চয়তার সময়ে আর্থিক চাপ কমে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য সংকট কতদিন স্থায়ী হবে তা স্পষ্ট নয়। তবে প্রস্তুতি থাকলে প্রবাসী আয়ে সাময়িক ধাক্কা এলেও পরিবারগুলো আর্থিক স্থিতি বজায় রাখতে পারবে।