আংশিক খুলছে কাতারের আকাশপথ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংকারে লাখো ইসরায়েলি
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কাতার সীমিত পরিসরে তাদের আকাশপথ আবার খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।…
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৭৯৮ জন। লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থা ও দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলার ধারাবাহিকতায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে ইসরায়েলি বাহিনী দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা শুরু করে। প্রথমদিকে নিহতের সংখ্যা ১২৩ জন বলে নিশ্চিত করা হয়েছিল। তবে দিনভর বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার এবং আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর নিহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে তারা লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল হেজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার, অস্ত্রভাণ্ডার এবং ড্রোন সংরক্ষণাগার। ইসরায়েলের ভাষ্য অনুযায়ী, লেবাননে হেজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তবে হামলার পর বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র সামনে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিমান হামলার পরপরই কয়েকটি এলাকায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে এবং আকাশে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। বহু ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে এবং আশপাশের সড়কগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
বৈরুতের কয়েকজন বাসিন্দা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হামলার সময় তারা প্রচণ্ড আতঙ্কে ছিলেন। অনেকেই হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েন। শহরের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থাও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
লেবাননের হাসপাতালগুলোতে আহত মানুষের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অনেকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতকে একটি গুরুতর কৌশলগত ভুল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকেও স্পষ্টভাবে বৈধ নয় বলে তার মনে হয়।
সানচেজের মতে, মিত্র দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও কোনো পক্ষ সঠিক হলে তাকে সমর্থন করা এবং ভুল করলে সেই ভুলের সমালোচনা করা উচিত। তার এই মন্তব্যের পর নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন মহলে।
অন্যদিকে স্পেন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের মোরন ও রোটাফোরের যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালানোর অনুমতি দেয়নি। এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের বিরুদ্ধে পূর্ণ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন। এতে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎসও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের জনগণের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে এবং দেশটিকে কোনোভাবেই প্রক্সি যুদ্ধের ময়দানে পরিণত করা উচিত নয়।
জার্মান চ্যান্সেলরের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে পুরো অঞ্চলে আরও বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে এর ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়তে থাকবে এবং তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন শক্তির প্রতিক্রিয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে। এর প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতি, বাণিজ্য এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
সূত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au