আংশিক খুলছে কাতারের আকাশপথ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংকারে লাখো ইসরায়েলি
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কাতার সীমিত পরিসরে তাদের আকাশপথ আবার খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।…
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্দেশে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ইরানের অন্য কোনো দেশে আগ্রাসন চালানোর কোনো ইচ্ছা নেই। সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে তিনি চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নেওয়া প্রতিক্রিয়ামূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিবেশী কোনো দেশ থেকে সরাসরি ইরানের ওপর হামলা না হলে তাদের বিরুদ্ধে আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হবে না।
তিনি বলেন, “গতকাল অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ ঘোষণা দিয়েছে যে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে আর কোনো হামলা বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে না, যদি না সেই দেশগুলো থেকে ইরানের ওপর আক্রমণ আসে।”
একই সঙ্গে সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আঞ্চলিক দেশগুলোর সরকারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। পেজেশকিয়ান বলেন, “প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। অন্য কোনো দেশে আগ্রাসন চালানোর কোনো উদ্দেশ্য আমাদের নেই।”
ইরানের প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য এমন এক সময় এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ওই হামলার জবাবে ইরান বিভিন্ন স্থানে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে আসছে, যা পুরো অঞ্চলে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
তেহরান কর্তৃপক্ষ এসব হামলাকে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়াতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।
ভাষণে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের কথিত দাবি—ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে হবে—এই বিষয়টিও প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, “আমাদের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের যে স্বপ্ন তারা দেখছে, সেই স্বপ্ন তারা কবরে নিয়েই যাবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য একদিকে প্রতিবেশী দেশগুলোকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার বার্তা। চলমান সংঘাতের মধ্যেও তেহরান আঞ্চলিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখার ইঙ্গিত দিতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকায় অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে এবং এর প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au