হেলমেট নিয়ে কথা–কাটাকাটির জেরে এক পরিবারের ১৩ গুলিবিদ্ধ, আহত ১৪। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৯ মার্চ- মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালানো নিয়ে কথা–কাটাকাটির জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের নারী, শিশু ও পুরুষ মিলিয়ে ১৪ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনা ঘটেছে রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার রুদ্রপাড়া গ্রামে।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মিজান খান, তাঁর মা মিনু বেগম, ফুপু জয়তন বেগম ও শাফি বেগম, বাবা খোরশেদ খান, চাচা ইদ্রিস খান, ফুফাতো বোন ফাহিমা, ভাবি কাজল বেগম, নুপুর আক্তার ও বর্ণা আক্তার, ভাতিজা আয়ান ও মোস্তাকিন, ভাতিজি দোলন ও ইভা আক্তার। মিজান ছাড়া সকলকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, হামলার অভিযোগ উঠেছে হারুন খান ও তাঁর ভাতিজা মান্নান খানের বিরুদ্ধে। ঘটনায় জানা যায়, রাত নয়টার দিকে মিজান খান হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন হারুন ও মান্নান রাতের সময় হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালানোর বিষয়টি নিয়ে তাকে বাধা দেন। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হারুন ও তাঁর সহযোগীরা মিজানকে মারধর করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় মিজান বাড়িতে ফিরে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান।
এরপর মিজানের বাবা খোরশেদ খান ছেলের অবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে হারুন ও মান্নানের নাম ধরে গালিগালাজ করেন। তখন হারুন ও মান্নান ১০–১৫ জনকে নিয়ে মিজানের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় শটগান দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হয়। এতে বাড়িতে থাকা নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শংকর কুমার পাল জানান, রাত ১২টার পর ১৪ জন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসে। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সকলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত রফিকুল খানের অভিযোগ, এলাকায় হারুন ও মান্নান মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। হেলমেট পরা কাউকে দেখলে তারা পুলিশ ভেবে ভয় পান। এ কারণে হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালাতে কেউকে দেওয়া হয় না এবং প্রায়ই মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। গুলিবিদ্ধদের কাতরাতে থাকা অবস্থায় হামলাকারীরা কাউকে হাসপাতালে নিতে দিচ্ছিলেন না। পরে রাত ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনার পর রুদ্রপাড়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুয়েল মিয়া বলেন, হামলার ঘটনায় হারুন, মান্নান ও মহসিনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি একনলা বন্দুক ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। উভয় অস্ত্রই বৈধ। মামলার প্রক্রিয়া চলমান।