নতুন সর্বোচ্চ নেতার নির্বাচন তেহরানে উদযাপনে হাজারো মানুষ
মেলবোর্ন, ১০ মার্চ- ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনি-র নিয়োগকে ঘিরে রাজধানী তেহরান-এ সমর্থকদের বড় সমাবেশ দেখা গেছে। নতুন নেতার প্রতি সমর্থন জানাতে হাজারো…
মেলবোর্ন, ৯ মার্চ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়া সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী সম্ভাব্য মধ্যপ্রাচ্য মোতায়েনের জন্য প্রাথমিক পরিকল্পনা শুরু করেছে বলে জানা গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে সরকারকে বিভিন্ন বিকল্প দেওয়ার জন্য সামরিক নেতৃত্ব প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট বর্তমান অ্যালবানিজ সরকারকে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতে অস্ট্রেলিয়া কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা রাখছে না।
“প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিটি বড় সংঘাতে অস্ট্রেলিয়া পাশে থেকেছে—কোরিয়া যুদ্ধ, ভিয়েতনাম যুদ্ধ, উপসাগরীয় যুদ্ধ, আফগানিস্তান এবং আইএসবিরোধী লড়াই। অথচ এখন যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ধ্বংসের জন্য হামলা চালাচ্ছে, তখন অস্ট্রেলিয়া কার্যত কিছুই করছে না।”
নিজের সাম্প্রতিক নিউজলেটারে অ্যাবট লেখেন, “সবকিছু এখন রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা ঘিরে, জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কোনো গুরুত্ব নেই।”
তিনি আরও বলেন, “প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিটি বড় সংঘাতে অস্ট্রেলিয়া পাশে থেকেছে—কোরিয়া যুদ্ধ, ভিয়েতনাম যুদ্ধ, উপসাগরীয় যুদ্ধ, আফগানিস্তান এবং আইএসবিরোধী লড়াই। অথচ এখন যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ধ্বংসের জন্য হামলা চালাচ্ছে, তখন অস্ট্রেলিয়া কার্যত কিছুই করছে না।”
অ্যাবটের অভিযোগ, “আমাদের কাছে কোনো অনুরোধ আসেনি, আমাদের সঙ্গে পরামর্শও করা হয়নি, এমনকি আমাদের জানানোও হয়নি।” তিনি সরকারের অবস্থানকে “লজ্জাজনক” এবং “অপমানজনক” বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে ইরানে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের খবরও সামনে এসেছে। দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সাংবাদিকদের বলেন, সাম্প্রতিক হামলার মাধ্যমে “সব লাল রেখা অতিক্রম করা হয়েছে।”
তিনি জানান, চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতার আলোচনা “অপ্রাসঙ্গিক”। তবে অন্য কোনো দেশ যদি তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে দেয়, তাহলে ইরান আত্মরক্ষার অধিকার সংরক্ষণ করবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বাঘাই আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক হামলার মাধ্যমে কূটনৈতিক আলোচনা নষ্ট করেছে এবং এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে বিভক্ত করে দেশটির তেলসম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং জানিয়েছেন, ইরানের হামলার শিকার কিছু দেশ অস্ট্রেলিয়ার কাছে সহায়তা চেয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অস্ট্রেলিয়া ইরানে কোনো স্থলবাহিনী পাঠাবে না।
তবে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে “ভাল ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক” বজায় রাখতে ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য মোতায়েনের জন্য বিকল্প পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। ব্রিসবেনে অবস্থিত অস্ট্রেলীয় সেনাবাহিনীর প্রথম ডিভিশন সম্ভাব্য অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। যদিও এতে সরাসরি যুদ্ধ, সহায়তামূলক ভূমিকা বা শান্তিরক্ষী মিশনের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং জানিয়েছেন, ইরানের হামলার শিকার কিছু দেশ অস্ট্রেলিয়ার কাছে সহায়তা চেয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অস্ট্রেলিয়া ইরানে কোনো স্থলবাহিনী পাঠাবে না।
তিনি এবিসিকে বলেন, “আমরা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি, ইরানে স্থলবাহিনী মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনায় আমরা অংশ নেব না।”
তবে সীমিতভাবে অস্ট্রেলিয়ার সম্পৃক্ততা ইতোমধ্যেই দেখা গেছে। গত সপ্তাহে শ্রীলঙ্কার উপকূলে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি সাবমেরিন ইরানের ফ্রিগেট ‘দেনা’ ডুবিয়ে দেওয়ার সময় ওই সাবমেরিনে তিনজন অস্ট্রেলীয় নৌসদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্ট্রেলীয় সেনাবাহিনীর সরাসরি স্থলযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম। বরং বিমানবাহিনী এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান বা রাডার বিমান পাঠাতে পারে, আর নৌবাহিনী সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল রক্ষায় ডেস্ট্রয়ার বা ফ্রিগেট মোতায়েন করতে পারে।
তাদের মতে, ইরানের প্রায় দশ লাখ সেনাসদস্য থাকায় সরাসরি স্থলযুদ্ধে জড়ানো যে কোনো দেশের জন্যই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
-news.com.au
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au