ফিফা সভাপতির পদত্যাগ চান লা লিগা সভাপতি তেবাস
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোর বিরুদ্ধে আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন স্পেনের লা লিগা সভাপতি হ্যাভিয়ের তেবাস। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৪৮ থেকে বাড়িয়ে…
মেলবোর্ন, ১১ মার্চ- বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি ও গভর্নিং বডির সভাপতি পদে আবারও জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনের ভেতরে আলোচনা চললেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সম্ভাব্য এই পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সভায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির বর্তমান প্রবিধানমালা নিয়ে আলোচনা করেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক শাখার কর্মকর্তা সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী জানান, প্রবিধানমালার কয়েকটি বিষয়ে আপত্তি উঠেছে। সেসব আপত্তির বিষয় নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
২০১৫ সালের ৩১ আগস্ট বেসরকারি স্কুল ও কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হওয়ার জন্য প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশোধিত প্রবিধানমালা অনুযায়ী, বেসরকারি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হতে চার বছর মেয়াদি স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করা হয়।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারি কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজের অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্য থেকে সভাপতি পদে মনোনয়নের বিধান রাখা হয়।
এর ফলে জনপ্রতিনিধি বা সংসদ সদস্যদের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, আগে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ ছিল। প্রবিধানমালা সংশোধনের পর সেই সুযোগ আর নেই। এ বিষয়েই কিছু সংসদ সদস্য আপত্তি তুলেছেন এবং তারা আবারও সভাপতি হওয়ার সুযোগ চান। এই আপত্তি কীভাবে সমাধান করা যায়, তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে।
বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী বলেন, সভায় প্রবিধানমালার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে কোন বিষয় কীভাবে পরিবর্তন হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে বিষয়টি জানাবে।
এদিকে জনপ্রতিনিধিদের আবার পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে মতামতও সামনে এসেছে। কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ভূইয়াঁ বলেন, আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করতেন। পরে সংশোধিত নীতিমালায় তাদের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়ে সংসদ সদস্যদের আপত্তি নেই। তবে জনপ্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের সুযোগ দেওয়ার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে শিক্ষক নেতারা মনে করছেন, জনপ্রতিনিধিদের আবার পরিচালনা পর্ষদে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মাজহারুল হান্নান বলেন, অতীতে জনপ্রতিনিধিরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে থাকায় অনেক ক্ষেত্রে রাজনীতিকরণ বেড়েছিল এবং শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছিল।
তার মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার লক্ষ্যেই সরকারি কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই ব্যবস্থা পরিবর্তন করা হলে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের সংগঠন বাংলাদেশ শিক্ষক ফোরামের সভাপতি এবং পাবনার সুজানগরের খলিলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. হাবিবুল্লাহ রাজু বলেন, শিক্ষাঙ্গনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে দূরে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, অতীতে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা পরিচালনা পর্ষদে থাকলে তার প্রভাব শিক্ষাঙ্গনে পড়েছে। তাই সভাপতি পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বা বর্তমান বিধান শিথিল না করার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কাঠামো নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তার ফলাফল ভবিষ্যতে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au