চীনকে ২-১ গোলে হারিয়ে এশিয়ান কাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- নারীদের এশিয়ান কাপ ২০২৬-এর প্রথম সেমিফাইনালে চীনকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। পার্থ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে কেটলিন…
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি মনে করেন কিউবাকে “দখল করার” সম্মান তারই হবে। হোয়াইট হাউসে এক নির্বাহী আদেশে সই করার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও উপস্থিত ছিলেন।
ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি কিউবাকে নেওয়ার সম্মান আমারই হবে। আমি চাইলে এটাকে মুক্ত করতে পারি, কিংবা দখল করতে পারি—সত্যি বলতে, আমি যা চাই তা-ই করতে পারি।” তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে কিউবা একটি “দুর্বল রাষ্ট্রে” পরিণত হয়েছে।
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরানে সামরিক অভিযান তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। ওই সংঘাত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইরানের জনগণকে তাদের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, কিউবা প্রসঙ্গে তার সাম্প্রতিক বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতিরই ধারাবাহিকতা।
গত কয়েক মাস ধরেই ট্রাম্প একাধিকবার কিউবাকে নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেছেন। কখনো তিনি দেশটির সঙ্গে “সমঝোতা” করার কথা বলেছেন, আবার কখনো “বন্ধুত্বপূর্ণ দখল”এর ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য পূরণ করলে পরবর্তী নজর থাকবে কিউবার দিকে। তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকা দেশটি এখন গভীর সংকটে রয়েছে এবং আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির আগ্রাসী অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার অভিযানও পরিচালনা করেছে। একই সময়ে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রহ আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কিউবার বর্তমান পরিস্থিতিও বেশ সংকটপূর্ণ। ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দেশটি জ্বালানি সংকটে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে কার্যত কিউবার দিকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, যার ফলে দেশটিতে বিদ্যুৎ বিপর্যয় এবং অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে কিউবা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে বলে জানা গেছে। ট্রাম্প নিজেও নিশ্চিত করেছেন যে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। তিনি বলেন, “তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। এটি একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে—তাদের কাছে তেল নেই, কিছুই নেই।”
তবে কিউবার নেতৃত্ব বারবার তাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের কথা জানিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল বলেছেন, যেকোনো আলোচনাই হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও স্বাধীনতার ভিত্তিতে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য শুধু কূটনৈতিক চাপ নয়, বরং একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। অর্থনৈতিক অবরোধ, জ্বালানি সংকট এবং রাজনৈতিক চাপ, সব মিলিয়ে কিউবাকে একটি কঠিন অবস্থানে ফেলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের শর্তে সমাধান চাইছে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের “কিউবা দখল” সংক্রান্ত মন্তব্য নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা সম্পর্ককে উত্তপ্ত করে তুলেছে। এটি শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, বরং পুরো লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের ভূরাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সূত্রঃ সিএনবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au