মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৮ মার্চ- ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘খুবই বোকামিপূর্ণ ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ন্যাটোর বেশিরভাগ মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে যে তারা ইরানে চলমান সামরিক অভিযানে সরাসরি জড়াতে চায় না।
সেন্ট প্যাট্রিকস ডে উপলক্ষে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সফরের সময় ট্রাম্প বলেন, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থন জানালেও তারা সরাসরি অংশগ্রহণে অনীহা দেখাচ্ছে। তার ভাষায়, সবাই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে একমত হলেও সহায়তা করতে চাইছে না, যা তার কাছে বিস্ময়কর বলে মনে হয়েছে।
তবে ন্যাটো মিত্রদের এই অবস্থানের কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়ামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি না, সে বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। তিনি জানান, আপাতত এ বিষয়ে তার কোনো সিদ্ধান্ত নেই। অতীতে ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের হুমকি দিলেও এদিন সে প্রসঙ্গ তোলেননি তিনি।

বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতের মাঝে ইরান যুদ্ধ। ছবিঃ সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার জবাবে তেহরান ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও সমুদ্র মাইন ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালীর কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেয়। বিশ্বে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করে। এ পরিস্থিতিতে প্রণালীটি নিরাপদ রাখতে অন্যান্য দেশকে সহযোগিতার আহ্বান জানান ট্রাম্প।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি মিত্র দেশ জানিয়ে দেয়, তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না। এতে ট্রাম্পের সামরিক সহায়তার আহ্বান কার্যত প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, সামরিকভাবে সফল হওয়ায় এখন আর ন্যাটোর সহায়তার প্রয়োজন নেই এবং কখনোই ছিল না। এ প্রসঙ্গে তিনি জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের পরিচালক জোসেফ কেন্টের পদত্যাগ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, এটি ভালোই হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, নিরাপত্তা বিষয়ে কেন্ট দুর্বল ছিলেন। ট্রাম্প বলেন, কেন্টের বক্তব্য পড়ে তার মনে হয়েছে, তিনি পদত্যাগ করায় ভালো হয়েছে, কারণ কেন্ট দাবি করেছিলেন যে ইরান কোনো হুমকি নয়।
ট্রাম্প আরও বলেন, বিশ্বের প্রতিটি দেশই বুঝেছিল ইরান কত বড় হুমকি, তবে প্রশ্ন হলো তারা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে চায় কি না।
এর আগে ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে মঙ্গলবার পদত্যাগ করেন জোসেফ কেন্ট। পদত্যাগপত্রে তিনি জানান, বিবেকের তাড়নায় তিনি এই যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারছেন না। তার দাবি, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি ছিল না এবং ইসরায়েল ও তাদের প্রভাবশালী লবির চাপেই এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে।
জোসেফ কেন্ট জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ডের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তবে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গ্যাবার্ডকে এ বিষয়ে খুব কমই প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে দেখা গেছে।