আরজি কর কাণ্ডে নিহত চিকিৎসকের মা, বিজেপির প্রার্থী হতে আগ্রহী
মেলবোর্ন, ২০ মার্চ- ভারতের কলকাতা-র আরজি কর হাসপাতাল-এ ২০২৪ সালের আলোচিত ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার নারী চিকিৎসকের মা আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।…
মেলবোর্ন, ১৯ মার্চ- ভারতের কারাগারে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করার ৩৬ দিন পর এক বাংলাদেশি নাগরিকের লাশ আজ দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে লালমনিরহাটের বুড়িমারী সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরানো এই লাশ আজ পরিবারের হাতে পৌঁছেছে।
নিহতের পরিবার জানায়, কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার পশ্চিম কালুডাঙার বাসিন্দা খাইরুজ্জামাল (৪২) দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর অবৈধভাবে ভারতে থাকার পর মারা যান। তিনি কারাবাসে অসুস্থ হয়ে পড়লে ১০ ফেব্রুয়ারি ভারতের জলপাইগুড়ি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে রাত ৯ টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
খাইরুজ্জামালের মৃত্যুর পর দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং কূটনৈতিক মাধ্যমে দীর্ঘ ৩৬ দিন পর আজ(১৯ মার্চ) দুপুর আড়াইটায় লালমনিরহাটের বুড়িমারী (চেংড়াবান্দা) ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দুপুর আড়াইটায় লালমনিরহাটের বুড়িমারী (চেংড়াবান্দা) ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ছবিঃ ওটিএন বাংলা
বাংলাদেশের কলকাতায় নিযুক্ত হাইকমিশনের প্রতিনিধি, বিজিবি, বিএসএফ, দুই দেশের পুলিশ ও কাস্টমস কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে লাশ হস্তান্তরের কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। এই মানবিক কাজটি সুসম্পন্ন করতে দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকা রেখেছেন রেডিও চিলমারীর স্টেশন ম্যানেজার বশির আহমেদ।
খাইরুজ্জামাল মৃত্যুর সময় স্ত্রী, এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রেখে গেছেন। পরিবার জানায়, আজ রাত সাড়ে ৭টায় তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, খাইরুজ্জামাল সাড়ে তিন বছর আগে কাজের উদ্দেশ্যে অবৈধ পথে ভারতে গিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর ভারতীয় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন এবং কারাগারে রাখা হয়। কারাবাসে অবস্থার সময় অসুস্থতা দেখা দেয়। মৃত্যুর পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে লাশ আনা সম্ভব হয়েছে।
নিহতের ছোটভাই খয়বর জামান বলেন, প্রায় সাড়ে তিন বছর আমার বড় ভাই ভারতে যাওয়ার পর নিখোঁজ ছিল। তার মৃত্যুর পরেই আমরা জানতে পারি তিনি কারাগারে ছিলেন। মারা যাওয়ার পরেও যে তার লাশ দেশে আনা গেছে এতে আমরা সন্তষ্ট। এই কাজে বাংলাদেশের সরকারসহ যারা সহায়তা করেছেন তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
রেডিও চিলমারীর স্টেশন ম্যানেজার বশির আহমেদ বলেন, ওই পরিবারটি খাইরুজ্জামালের নিহতের খবর পাবার পর আমাদের কাছে জানতে এসেছিল ভারত থেকে কোন প্রকৃয়ায় লাশ আনতে হয়। নিহতের ছোটভাই খয়বর জামান তার মায়ের শেষবারের মতো মৃত ছেলের মুখ দেখার ইচ্ছার কথা বলে কেঁদে ফেলেছিলেন। তারপর থেকে আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কলকাতায় বাংলাদেশে উপহাইকমিশনারের কার্যালয় এবং ভারতীয় হাইকমিশনারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজকে লাশ নিয়ে আসতে পারলাম। এই কাজটি সম্পন্ন করতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন পরিচালকের নিকট আমি কৃতজ্ঞ।
দুই দেশের সহযোগিতায় লাশ প্রত্যাবর্তনের এই প্রক্রিয়া মানুষের নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা বজায় রাখার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং ভারতীয় কর্মকর্তারা একযোগে কাজ করে লাশটি যথাযথভাবে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজটি সম্পন্ন করেন। এই ধরনের সহযোগিতা সীমান্ত পারাপারের জটিলতায় মানবিক বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দেয়ার এক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরিবার ও স্থানীয়রা আশা করছেন, সরকারি পর্যায়ের সহযোগিতা এবং সীমান্তের তদারকির কারণে ভবিষ্যতে এমন দুঃখজনক ঘটনা কমবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au