জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়ে ভিডিও পোস্ট
মেলবোর্ন, ২৮ মার্চ- শরীয়তপুরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে দুর্বৃত্তরা এই আগুন লাগায় বলে জানা গেছে।…
মেলবোর্ন, ২৭ মার্চ- চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসে বাংলাদেশকে বড় পাঁচ উন্নয়ন সহযোগী দেশ নতুন কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। এই দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, রাশিয়া, চীন ও ভারত। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য। তবে এ সময়ের মধ্যে এসব দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য চার দেশ পূর্বের প্রতিশ্রুত অর্থের একটি অংশ ছাড় করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিপক্ষীয় সহযোগী দেশগুলোর পক্ষ থেকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি না থাকলেও বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীদের দিক থেকে কিছুটা ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। বিশেষ করে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ঋণ প্রতিশ্রুতি ও অর্থ ছাড়ের প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে, যা সামগ্রিক পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি তৈরি করেছে।
উন্নয়ন সহযোগীদের এমন মন্থর অবস্থানের কারণ সম্পর্কে বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান-এর মহাপরিচালক ড. এনামুল হক বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই উন্নয়ন সহযোগীরা কিছুটা সময় নিয়ে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে। পাশাপাশি সামনে জাতীয় বাজেট থাকায় আগামী কয়েক মাসে ঋণ প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে, যা মোকাবিলায় সরকারকে নতুন করে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে হতে পারে।
ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অধীন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) থেকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি এসেছে ২৭ কোটি ডলারের কিছু কম, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে প্রায় ৯৫ কোটি ডলার ছিল। অর্থাৎ নতুন প্রতিশ্রুতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে এ সময় আইডিএ থেকে ৫৬ কোটি ডলার ছাড় হয়েছে, যা প্রতিশ্রুতির তুলনায় বেশি। আইডিএ সাধারণত স্বল্প সুদে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিশোধযোগ্য ঋণ দিয়ে থাকে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ক্ষেত্রে চিত্র কিছুটা ভিন্ন। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসে এডিবি থেকে ১২৭ কোটি ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৭০ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। একই সময়ে এডিবি থেকে ৫৪ কোটি ডলার ছাড় হয়েছে। অর্থাৎ সংস্থাটির নতুন প্রতিশ্রুতি অর্থ ছাড়ের তুলনায় অনেক বেশি, যা ভবিষ্যৎ অর্থায়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে অন্যান্য বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি তুলনামূলক কম এসেছে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এ সময় মাত্র ২ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি মিলেছে, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৩ কোটিরও বেশি। বেইজিংভিত্তিক এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) এ সময় কোনো নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি এবং তাদের অর্থ ছাড়ের পরিমাণও ছিল খুবই সীমিত, সাত মাসে ৩ কোটি ডলারেরও কম।
দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে জাপান, রাশিয়া, চীন ও ভারত—কোনো দেশই নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। তবে জাপান এ সময় ১৮ কোটি ডলারের বেশি, রাশিয়া প্রায় ৫৮ কোটি ডলার, চীন ২২ কোটি ডলার এবং ভারত প্রায় ১২ কোটি ডলারের মতো পূর্ব প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড় করেছে।
গত অর্থবছরের একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান যৌথভাবে প্রায় ৪৫ কোটি ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু চলতি অর্থবছরের একই সময়ে এই দুই দেশের পক্ষ থেকে নতুন কোনো প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। ফলে সামগ্রিকভাবে ঋণ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ কিছুটা কমেছে।
সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলো থেকে মোট ২২৭ কোটি ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৩৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ নতুন প্রতিশ্রুতিতে সামান্য পতন দেখা গেছে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে সরকারি ও বেসরকারি খাতে নেওয়া মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১৩ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি কমে যাওয়ার এই প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে চাপ তৈরি হতে পারে। তবে বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর ইতিবাচক ভূমিকা এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য নতুন চুক্তির মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা ভারসাম্যে ফিরে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্রঃ সমকাল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au