মেলবোর্ন, ৩০ মার্চ- ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে “অর্থবহ শান্তি আলোচনা” আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান। তবে একই সময়ে তেহরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে আলোচনার কথা বললেও গোপনে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে।
রোববার আঞ্চলিক পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানান, সংঘাত দ্রুত ও স্থায়ীভাবে শেষ করার সম্ভাব্য উপায় এবং ইসলামাবাদে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে একটি ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে পাকিস্তান আলোচনার আয়োজন করতে প্রস্তুত। তবে এই আলোচনায় ওয়াশিংটন ও তেহরান অংশ নেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও হোয়াইট হাউস কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের কঠোর অবস্থান পাকিস্তানের এই উদ্যোগকে জটিল করে তুলতে পারে।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দ্বৈত অবস্থানের অভিযোগ তুলে বলেন, একদিকে আলোচনা, অন্যদিকে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি—এই অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সেনা মোতায়েন করলে ইরান কঠোর জবাব দেবে এবং কোনো অবস্থাতেই আত্মসমর্পণ করবে না।
সংঘাতের প্রভাব আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও পড়ছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ইরানের কার্যত অবরোধ বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি করেছে।
মাঠের পরিস্থিতিও ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে। ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, রোববার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তারা তেহরানসহ মধ্য ও পশ্চিম ইরানের বিভিন্ন এলাকায় ১৪০টির বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মেহরাবাদ বিমানবন্দর ও তাবরিজের একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানে আরও একজন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, যা নিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা ৫১-এ দাঁড়িয়েছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, হেজবুল্লাহ যোদ্ধারা চিকিৎসা স্থাপনাকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করছে, যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংগঠনটি।
দক্ষিণ ইসরায়েলের বিয়ার শেবা শহরের কাছে একটি রাসায়নিক কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র বা তার ধ্বংসাবশেষ আঘাত হেনেছে। এতে ১১ জন আহত হয়েছেন এবং এলাকাটি বিপজ্জনক ঘোষণা করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
যুদ্ধের বিস্তার আরও বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। সপ্তাহান্তে বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা প্রথমবারের মতো ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে, যা বাব এল-মান্দেব প্রণালিতেও নতুন করে অস্থিরতার শঙ্কা তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে সংঘাত দ্বিতীয় মাসে গড়ালেও শান্তির কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, বরং সামরিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন একসঙ্গে বাড়ছে।
সূত্রঃরয়টার্স