মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নির্দেশে জেনারেল জর্জকে নির্ধারিত সময়ের আগেই অবসর নিতে বলা হয়েছে। জানা গেছে, তার সামরিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে প্রশাসনের মতপার্থক্য ছিল। যদিও তিনি ২০২৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার কথা ছিল।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যৌথ হামলায় ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেহরানের পশ্চিমে কারাজ শহরের কাছে অবস্থিত বি-১ সেতুতে হামলার ফলে সেটি প্রায় দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম উঁচু এই সেতুটি শিগগিরই উদ্বোধনের কথা ছিল এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক সংযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।
এদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড অনুযায়ী তেলের দাম (West Texas Intermediate) ব্যারেলপ্রতি ১১৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ। একইসঙ্গে শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
বর্তমানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানকে সামনে রেখে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
জেনারেল জর্জের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে আপাতত দায়িত্ব নিচ্ছেন আর্মির ভাইস চিফ অব স্টাফ জেনারেল ক্রিস্টোফার লানেভ।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের ব্যাপক রদবদল করেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল চার্লস “সিকিউ” ব্রাউনকে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি এবং বিমানবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট তার পছন্দ অনুযায়ী নেতৃত্ব নির্বাচন করছেন। তবে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এতে ঐতিহ্যগতভাবে নিরপেক্ষ মার্কিন সেনাবাহিনী রাজনৈতিক প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে দ্রুত সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বি-১ সেতুতে হামলার ভিডিও শেয়ার করে বলেন, “এটি ইরানের সবচেয়ে বড় সেতু—এখন আর কখনো ব্যবহার করা যাবে না। আরও অনেক কিছু ঘটতে যাচ্ছে। এখনই সময় ইরানের চুক্তিতে আসার, না হলে অনেক দেরি হয়ে যাবে।”
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দিন দিন আরও জটিল আকার ধারণ করছে, যার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে।