হিন্দু কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ৩ এপ্রিল- মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় এক হিন্দু কিশোরীকে ধর্ষণের পর সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় গত শনিবার সাটুরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা।…
মেলবোর্ন, ৩ এপ্রিল- দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা-র আর্টেমিস টু মিশন পৃথিবীর কক্ষপথ অতিক্রম করে চাঁদের দিকে যাত্রা শুরু করেছে। ইঞ্জিনের শক্তি বাড়িয়ে মহাকাশযানটিকে চাঁদের পথে পরিচালিত করা হয়েছে, যা মানবজাতির চন্দ্রাভিযানে নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অ্যাপোলো ১৭ মিশনের পর প্রায় ৫০ বছরের বেশি সময় পর আবারও মানুষকে চাঁদের কাছাকাছি পাঠানো হলো এই অভিযানের মাধ্যমে। তিনজন মার্কিন এবং একজন কানাডীয় মহাকাশচারীকে নিয়ে গঠিত এই দলটি ইতোমধ্যে পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়িয়ে চাঁদের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। যাত্রার কিছু সময় পরই কানাডীয় মহাকাশচারী জেরেমি হ্যানসেন জানান, মহাকাশযানের জানালা দিয়ে চাঁদের আলোয় আলোকিত পৃথিবীর দৃশ্য অসাধারণ মনে হচ্ছে এবং সেই দৃশ্য থেকে চোখ সরানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ভোরে উৎক্ষেপণের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই মিশনটি শুধু প্রযুক্তিগত সাফল্যের বিষয় নয়, বরং মহাকাশ গবেষণায় নাসার ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই অভিযানে ব্যবহৃত স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) রকেট এবং ওরিয়ন ক্যাপসুল বহু বছর ধরে উন্নয়ন ও পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এসেছে। ২০১০ সালে শুরু হওয়া এই রকেট উন্নয়ন কর্মসূচির পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৪০০ কোটি ডলারের বেশি। এবারই প্রথম এই প্রযুক্তি মানুষের জীবন নিয়ে বাস্তব পরীক্ষার মুখোমুখি হলো।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মিশনটি এক ধরনের অগ্নিপরীক্ষা, যেখানে শুধু মহাকাশচারীদের নিরাপত্তাই নয়, বরং নাসার দীর্ঘদিনের ঠিকাদারনির্ভর ব্যবস্থার কার্যকারিতাও যাচাই হবে। বোয়িং ও লকহিড মার্টিনের মতো পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতার বিপরীতে বর্তমানে স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিনের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কম খরচে আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ফলে আর্টেমিস টু মিশনের সাফল্য ভবিষ্যতে মহাকাশ খাতে কোন মডেল বেশি কার্যকর হবে, সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিতে পারে।
এসএলএস রকেট শুরু থেকেই ব্যয়বহুল প্রকল্প হিসেবে সমালোচিত হয়ে আসছে। প্রতিটি উৎক্ষেপণে আনুমানিক ২০০ থেকে ৪০০ কোটি ডলার পর্যন্ত খরচ হয়, যা বাণিজ্যিক রকেটের তুলনায় অনেক বেশি। বিপরীতে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর তৈরি রকেট অনেক কম খরচে উৎক্ষেপণ সম্ভব করছে। এ অবস্থায় নাসা ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে অন্যান্য কোম্পানিকেও চন্দ্রাভিযানে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।
তবে পুরোনো প্রযুক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো এখনই প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে এসব বড় কোম্পানির প্রভাব এখনও শক্তিশালী। মার্কিন কংগ্রেসের অনেক সদস্য এসএলএস কর্মসূচিকে সমর্থন দিয়ে আসছেন, যার ফলে এটি দ্রুত বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
২০২২ সালে যাত্রীবিহীন পরীক্ষায় সফল হওয়ার পর এবার মানুষের উপস্থিতিতে আর্টেমিস টু মিশন পরিচালিত হচ্ছে, যা পুরো কর্মসূচির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই অভিযানের ফলাফল নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে চাঁদে নিয়মিত যাতায়াত, বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব এবং মহাকাশ গবেষণার নতুন দিগন্ত কতটা দ্রুত উন্মুক্ত হবে।
সব মিলিয়ে, আর্টেমিস টু শুধু একটি মহাকাশ অভিযান নয়, বরং প্রযুক্তি, অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার এক জটিল সমীকরণের প্রতিফলন, যার সফলতা বা ব্যর্থতা ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণার পথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au