কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কর্ণফুলীতে নৌকাডুবি: খোঁজ মিলছে না নববধূ কনিকা দাসের
মেলবোর্ন, ২৮ মে- চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীতে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় কনিকা দাশ (১৯) নামে এক নববধূ নিখোঁজ হয়েছেন। তবে স্থানীয় চার…
মেলবোর্ন, ২৭ মে- ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় হামাসের সামরিক শাখা কাসসাম ব্রিগেডের প্রধান মোহাম্মদ ওদেহ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। বুধবার (২৭ মে) ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, গাজা সিটির রিমাল এলাকায় চালানো এক হামলায় তিনি নিহত হন। তবে এ ঘটনায় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি হামাস।
ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, সাবেক গোয়েন্দা প্রধান মোহাম্মদ ওদেহ সম্প্রতি নিহত হওয়া কাসসাম ব্রিগেডের শীর্ষ নেতা ইজ্জুদ্দিন আল-হাদ্দাদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে সংগঠনটির সামরিক নেতৃত্বে আসেন। যদিও হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে তার নিয়োগ নিশ্চিত করেনি।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “গাজায় হামাসের সামরিক শাখার চতুর্থ শীর্ষ কমান্ডারকে নির্মূল করা হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, ওদেহকে তার সহযোগীদের সঙ্গে “নরকের গভীরে পাঠানো হয়েছে।”
এর আগে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ জানান, ইসরায়েলি বাহিনী ওদেহকে লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে। পরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, কয়েক মাস ধরে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পর এই হামলা পরিচালনা করা হয়।
ইসরায়েলের দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয়ে সরাসরি জড়িত ছিলেন মোহাম্মদ ওদেহ। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি হামাসের শেষ দিকের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কমান্ডারদের একজন ছিলেন, যিনি হামলার পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
এদিকে গাজার আল-শিফা হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের রিমাল এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্র বলছে, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কেনাকাটায় ব্যস্ত বাজার এলাকায় হামলা হওয়ায় ব্যাপক আতঙ্ক ও ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হয়েছে।
এর গাজা প্রতিনিধি হিন্দ খুদারি জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে পরপর তিনটি বড় বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। হামলার সময় বাজারে অসংখ্য মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৮০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
যুদ্ধ চলাকালে হামাসের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকেও হত্যা করেছে ইসরায়েল। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইসমাইল হানিয়া, ইয়াহইয়া সিনওয়ার, মোহাম্মদ দেইফ এবং মোহাম্মদ সিনওয়ার।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গাজায় এখনো সহিংসতা থামেনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে অন্তত ৯০৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
সূত্র : আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au