পৃথিবীর নতুন ছবি প্রকাশ করল নাসা। ছবিঃ নাসা
মেলবোর্ন, ৪ এপ্রিল- চাঁদের উদ্দেশে যাত্রাপথে থাকা আর্টেমিস-২ মিশনের মহাকাশচারীরা মহাকাশযানের ভেতর থেকে তোলা পৃথিবীর অসাধারণ কিছু ছবি প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা প্রকাশিত এসব ছবিতে দেখা গেছে গভীর নীল সমুদ্র আর সাদা মেঘে ঢাকা পৃথিবীর মনোমুগ্ধকর রূপ।
ওরিয়ন মহাকাশযান থেকে তোলা এই প্রাথমিক ছবিগুলোতে একটিতে পৃথিবীর বাঁকা অংশ ক্যাপসুলের জানালার ফ্রেমে ধরা পড়েছে। আরেকটি ছবিতে পুরো পৃথিবীকে দেখা গেছে, যেখানে নীল সমুদ্রের ওপর সাদা মেঘের সর্পিল রেখা ছড়িয়ে রয়েছে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, ছবিতে সবুজাভ অরোরার ঝলকও দেখা গেছে।
এই মিশনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান। তার সঙ্গে রয়েছেন ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ ও কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। তারা চারজনই ওরিয়ন মহাকাশযানে করে চাঁদের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন।

নাসা প্রকাশিত এসব ছবিতে দেখা গেছে গভীর নীল সমুদ্র আর সাদা মেঘে ঢাকা পৃথিবীর মনোমুগ্ধকর রূপ।
নাসার কর্মকর্তা লাকিশা হকিন্স ছবিগুলোর প্রশংসা করে এগুলোকে ‘অসাধারণ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এই ছবিতে আমাদের চারজন মহাকাশচারী ছাড়া পৃথিবীর বাকি সবাই যেন একসঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করছে।” তিনি আরও জানান, মিশনটি এখন পর্যন্ত সফলভাবেই এগিয়ে চলছে।
মহাকাশচারীরা ইতোমধ্যে ওরিয়নের প্রধান ইঞ্জিন চালু করেছেন, যা তাদের চাঁদের কক্ষপথের পথে এগিয়ে নিচ্ছে। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা চাঁদের চারপাশ ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন, মাঝপথে কোথাও অবতরণ করবেন না।
মিশন কন্ট্রোল থেকে মহাকাশযানের অবস্থান সামান্য পরিবর্তন করার পর মহাকাশচারীদের সামনে জানালাজুড়ে পুরো পৃথিবী ভেসে ওঠে, সঙ্গে উত্তর মেরুর আলোর ঝলক। এই দৃশ্যকে জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন কমান্ডার ওয়াইজম্যান। তিনি বলেন, “এটি এতটাই বিস্ময়কর ছিল যে আমরা চারজনই কিছুক্ষণ থমকে গিয়েছিলাম।”
মহাকাশে শূন্য মাধ্যাকর্ষণে ভেসে থাকার অভিজ্ঞতাও দারুণ উপভোগ করছেন মহাকাশচারীরা। জেরেমি হ্যানসেন বলেন, “এখানে আসা আমার কাছে অবিশ্বাস্য এক অভিজ্ঞতা। দৃশ্যগুলো সত্যিই অসাধারণ।” তিনি আরও বলেন, শূন্য মাধ্যাকর্ষণে ভেসে বেড়ানো তাকে আবার ছোটবেলার মতো আনন্দ দেয়।
আর্টেমিস-২ মিশনের এই দলটি ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর প্রথমবারের মতো চাঁদের পথে যাওয়া মানুষ। এই মিশন নাসার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য হলো চাঁদে নিয়মিত যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং সেখানে একটি স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করা, যা ভবিষ্যতে আরও গভীর মহাকাশ অনুসন্ধানের পথ তৈরি করবে।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ