৫৪৭ দিনে ৪২৫ নিয়োগ: রেকর্ড স্থাপন করেছেন চবির সদ্য বিদায়ী উপাচার্য
মেলবোর্ন, ৭ এপ্রিল- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার ৫৪৭ দিনের দায়িত্বকালে ৪২৫ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে…
মেলবোর্ন, ৭ এপ্রিল: ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সুদের হার বৃদ্ধি অস্ট্রেলিয়ার প্রপার্টি মার্কেট ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে একটি ‘নির্ধারক সময়’-এর মুখে দাঁড় করিয়েছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির শীর্ষ প্রপার্টি বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, আগামী ছয় সপ্তাহ অস্ট্রেলিয়ার অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সিডনি ও মেলবোর্নে নিলামে ওঠা সম্পত্তির সংখ্যা ছিল ২০২০ দশকের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোক্তাদের আস্থা কমে যাওয়ায় আবাসন খাতে চাহিদা হ্রাস পাচ্ছে। একই সঙ্গে নিলামে বিক্রির হারও কমছে। বাড়তি সুদের হার ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কারণে পরিবারের ব্যয় সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
সম্পত্তি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান SQM Research-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শেষ সপ্তাহে সিডনিতে নিলামে তোলা ২,০৬৬টি বাড়ির মধ্যে মাত্র ৩৮ শতাংশ বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে মেলবোর্নে ২,০৭৬টি বাড়ির মধ্যে বিক্রি হয়েছে সামান্য বেশি, প্রায় ৪৫ শতাংশ।
এই সময়টিতে সিডনি ও মেলবোর্নে নিলামে ওঠা সম্পত্তির সংখ্যা ছিল ২০২০ দশকের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে অনেক বিক্রয় বাতিলও হয়েছে বলে জানিয়েছেন খ্যাতনামা নিলামকারী টম প্যানোস।
তিনি বলেন, “আগামী ছয় সপ্তাহ অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি নির্ধারক সময়। সামনে রয়েছে ফেডারেল বাজেট, সুদের হার নির্ধারণের সিদ্ধান্ত এবং একই সঙ্গে একটি ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতি।”
সম্প্রতি ANZ-Roy Morgan-এর তথ্য অনুযায়ী, ভোক্তাদের আস্থা গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। প্যানোস বলেন, “আস্থা কমে গেলে মানুষ খরচ কমিয়ে দেয়, বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া বন্ধ করে দেয়।”
এদিকে বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান Spachus-এর তথ্য বলছে, গত এক বছরে সিডনিতে তালিকাভুক্ত মূল্য ও বিক্রয় মূল্যের মধ্যে গড়ে ৩১ হাজার ডলারের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। মেলবোর্নে গত তিন মাসে ৭৪ শতাংশ সম্পত্তি তালিকাভুক্ত মূল্যের চেয়ে গড়ে ২১,৫০০ ডলার কম দামে বিক্রি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৪ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায় আরও তিন দফা সুদের হার বৃদ্ধি হতে পারে। বড় ব্যাংকগুলোও একই ধরনের পূর্বাভাস দিচ্ছে এবং ২০২৮ সালের আগে সুদের হার কমার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছে।
প্রপার্টি গবেষক ক্যামেরন কুশার বলেন, “এমন উচ্চ সুদের হার অনেকেই আগে কখনো দেখেননি। ফলে বাজারে চাপ বাড়বে এবং বাড়ির দাম কমার সম্ভাবনাই বেশি।”

ফেডারেল ট্রেজারার জিম চালমার্স। বাজেট ও সুদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে আবাসন বাজারের ভবিষ্যৎ। ছবি: X
অন্যদিকে আসন্ন বাজেটকে কেন্দ্র করে কর সংস্কারের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। ফেডারেল ট্রেজারার জিম চালমার্স জানিয়েছেন, বাজেটে কর সংস্কার থাকবে, তবে ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (CGT) পরিবর্তনের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অনিশ্চয়তার মধ্যে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, সুদের হার এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির সম্মিলিত প্রভাবই আগামী সময়ে অস্ট্রেলিয়ার আবাসন বাজারের গতিপথ নির্ধারণ করবে।
-news.com.au
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au