জলবায়ু ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ৬ পদক্ষেপ, বছরে বাঁচতে পারে ১৬ লাখ প্রাণ
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ছয়টি কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে বছরে প্রায় ১৬ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। একই সঙ্গে কার্বন…
মেলবোর্ন, ৭ এপ্রিল- চাঁদের পাশ দিয়ে ঐতিহাসিক পরিক্রমা সম্পন্ন করে দীর্ঘ মহাকাশযাত্রা শেষে পৃথিবীতে ফিরছেন আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা। প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৬০ মাইল পথ অতিক্রম করে তারা বর্তমানে পৃথিবীর দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। তাদের এই প্রত্যাবর্তন যাত্রা শেষ হতে সময় লাগবে প্রায় চার দিন।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১০ এপ্রিল স্থানীয় সময় রাতে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলের প্যাসিফিক মহাসাগরে অবতরণ করবে মহাকাশযানটি। এর মধ্য দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানববাহী চন্দ্রাভিযানের একটি অধ্যায় সম্পন্ন হবে।
এই অভিযানে নভোচারীরা শুধু চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণই করেননি, বরং মহাকাশ থেকেই একটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ প্রত্যক্ষ করার বিরল অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছেন। বিজ্ঞানীদের মতে, এ ধরনের দৃশ্য মহাকাশ থেকে দেখা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যতের গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করতে পারে।
মিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল চাঁদের পেছনের অংশে অবস্থান করা, যেখানে মহাকাশযানটি প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নাসা জানিয়েছে, এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। নির্ধারিত সময় শেষে যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হলে মহাকাশযান থেকে প্রথম বার্তা দেন মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কচ। তিনি বলেন, পৃথিবী থেকে আবার বার্তা পেয়ে তারা স্বস্তি অনুভব করছেন।
এই ঐতিহাসিক মিশনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নভোচারীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, তারা ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন এবং পুরো দেশকে গর্বিত করেছেন। পাশাপাশি তিনি তাদেরকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
পৃথিবীতে ফেরার পর নভোচারীদের অবতরণ প্রক্রিয়াও বিশেষভাবে পরিকল্পিত। মহাকাশযানটি প্রথমে প্যাসিফিক মহাসাগরে অবতরণ করবে। এরপর উদ্ধারকারী দল দ্রুত সেখানে পৌঁছে নভোচারীদের নিরাপদে উদ্ধার করবে এবং হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাদেরকে নিকটবর্তী মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে নিয়ে যাওয়া হবে।

মিশনের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার মহাকাশযান থেকে পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণকক্ষে জানিয়ে দেন, তারা যে দৃশ্য দেখছেন তা “বর্ণনার বাইরে”। ছবিঃ নাসা
নাসা জানিয়েছে, জাহাজে ওঠার পরপরই নভোচারীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে, যাতে দীর্ঘ মহাকাশযাত্রার পর তাদের শারীরিক অবস্থার মূল্যায়ন করা যায়। এরপর ধাপে ধাপে তাদেরকে স্থলভাগে ফিরিয়ে আনা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্টেমিস-২ মিশনের এই সফল প্রত্যাবর্তন ভবিষ্যতে চাঁদে মানব বসতি স্থাপন এবং আরও গভীর মহাকাশ অভিযানের পথকে আরও সুগম করবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au