মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ৮ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মঙ্গলবার দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দিয়েছে। এই ঘোষণা আসে মাত্র এক ঘণ্টা আগে, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানকে “সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস” করার ডেডলাইন শেষ হওয়ার কথা ছিল। ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার শর্তে এই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইসরাইলও এই যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন জানিয়েছে। ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ইরানের ওপর আক্রমণ বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন এবং ইরানের কাছ থেকে একটি “কাজযোগ্য” যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পেয়েছেন।
ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবে কী কী দাবি রয়েছে
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের সমাপ্তি কেবল তখনই কার্যকর হবে, যখন ১০-দফা শান্তি পরিকল্পনার বিস্তারিত চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হবে। মূল দাবিগুলো হলো:
১. ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিয়ন্ত্রিত যাতায়াত ব্যবস্থা, যা ইরানকে অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব প্রদান করবে।
২. প্রতিরোধ অক্ষশক্তি সব উপাদানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সমাপ্ত করা।
৩. অঞ্চলের সব ঘাঁটি ও মোতায়েন কেন্দ্র থেকে মার্কিন যুদ্ধবাহিনী প্রত্যাহার।
৪. হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ ট্রানজিট প্রটোকল প্রতিষ্ঠা করা, যাতে ইরানের আধিপত্য নিশ্চিত হয়।
৫. আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী ইরানের সব ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ অর্থ প্রদান।
৬. বোর্ড অব গভর্নর এবং নিরাপত্তা পরিষদের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞা ও প্রস্তাব প্রত্যাহার।
৭. বিদেশে জব্দ করা ইরানের সব সম্পদ ও সম্পত্তি অবমুক্ত করা।
৮. এই সব বিষয়গুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে অনুমোদন।
ফার্সি প্রকাশনায় ইরান উল্লেখ করেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি “উন্নয়নকে গ্রহণযোগ্য” ধারা অন্তর্ভুক্ত, যদিও ইংরেজি অনুবাদে এই ধারা অনুপস্থিত ছিল।

হরমুজ প্রণালি। ছবিঃ সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধবিরতির প্রভাব
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপদ যাত্রা ইরানি সামরিক তত্ত্বাবধানে নিশ্চিত করা হবে। তবে পুরোপুরি প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ শিথিল হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান ও ওমান প্রণালীর মধ্য দিয়ে যাওয়া জাহাজের ওপর ফি আরোপ করতে পারবে এবং এই অর্থ পুনর্নির্মাণে ব্যবহার করা হবে। শান্তি আলোচনায় ব্যর্থ হলে, ইরান প্রণালী পুনরায় বন্ধ করার চেষ্টা করতে পারে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে শুক্রবার ইসলামাবাদে বৈঠকের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ইরান অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনও বৈঠকে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে কি না তা প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্র কি এই ১০ দফা পরিকল্পনা মেনে নেবে?
ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরানের মধ্যে প্রায় এক বছর ধরে পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত আলোচনা চললেও পারস্পরিক চাহিদার তফাৎ ও ছাড়ের সীমাবদ্ধতা কোনো স্থায়ী চুক্তি রোধ করেছে। বিশেষভাবে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণের দাবি উদ্বেগের কারণ। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরান প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজের জন্য প্রায় ২০ লাখ ডলারের ফি আরোপ করতে পারে। ডেমোক্র্যাটিক সেনেটর ক্রিস মারফি বলেছেন, “যদি ইরান প্রণালী নিয়ন্ত্রণের অধিকার পায়, তা বিশ্বের জন্য বিপজ্জনক।” বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরানের সর্বোচ্চ চাহিদাগুলো যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না, তবে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার হতে পারে।
ট্রাম্পের ডেডলাইনের আগে কী ঘটেছে
মঙ্গলবার গভীর রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পকে দুই সপ্তাহের জন্য ডেডলাইন বাড়াতে অনুরোধ করেন, যাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এগোতে পারে। একই সঙ্গে ইরানকেও দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে রাখার আহ্বান জানান। চীন, যা ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার, ইরানকে যুদ্ধবিরতি খুঁজে বের করতে উৎসাহিত করেছে। ট্রাম্পও এএফপি-কে জানিয়েছেন, চীনের সহায়তায় ইরান আলোচনার টেবিলে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যমেয়াদি নির্বাচন চলাকালীন ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতার রেটিং সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। জরিপ অনুযায়ী, নাগরিকরা যুদ্ধের বিরোধিতা করছে এবং জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধিতে হতাশ।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরানে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘিরে সাধারণ মানুষ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেছে। আকাশপথে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা এখনও চলছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ঘোষণা স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে আসছেন এবং সংঘাতের স্থায়ী সমাধান চাচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য হামলার প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনতে পারত।
মধ্যপ্রাচ্যে সতর্ক সংকেত
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও বাহরাইন সতর্ক সংকেত জারি করেছে। তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করছে। ইসরাইলও লক্ষ্য করে ছোড়া রকেটের জবাবে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সামরিক বাহিনীকে গুলি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরান ও ওমান ফি আদায় করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান এই অর্থ পুনর্গঠনের কাজে ব্যবহার করবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে মুখোমুখি আলোচনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, তার দেশের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা লেবাননসহ অন্যান্য এলাকায় কার্যকর হবে।
ইরান দাবি করেছে, তারা এই যুদ্ধে বড় ধরনের বিজয় অর্জন করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পারমাণবিক কর্মসূচি স্বীকৃতি এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ, নিরাপদ ও তাৎক্ষণিকভাবে খুলে দেওয়ার শর্তে তিনি দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক এখনও থামেনি। কংগ্রেস সদস্য অ্যালেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ এখন দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর বিমান হামলা চালানোর পর সংঘাত বিস্তৃত হয়ে ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নিহত হয়েছেন। “অপারেশন এপিক ফিউরি” নামে পরিচিত এই হামলার ফলে জ্বালানি, নৌপরিবহন ও বিমান চলাচল খাতে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে এবং বিশ্ব বাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au