এফ-৩৫ হ্যাঙ্গার ও ২১ মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ১০ জুন- মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের…
মেলবোর্ন, ১০ জুন- দেশে ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয়, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতার চাপের কারণে বড় ধরনের জনবল সংকোচনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ শিল্পোদ্যোক্তা ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ। তিনি বলেছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে প্রায় ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে হতে পারে।
সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কে আজাদ জানান, বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭৫ হাজার কর্মী কাজ করছেন। তবে বিশ্ববাজারে পোশাক ও শিল্পপণ্যের ক্রেতাদের অবস্থানের কারণে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও পণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ মিলছে না। ফলে ব্যবসা পরিচালনা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, দেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৯ শতাংশ হারে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে শ্রম ব্যয়সহ উৎপাদনের প্রায় সব খাতে। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিয়মিতভাবে বেতন ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাড়াতে হচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ক্রেতারা পণ্যের মূল্য বাড়াতে রাজি হচ্ছেন না।
এ কে আজাদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন উৎপাদন ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন। তারা কম জনবল ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। ফলে শ্রমনির্ভর শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখতে জনবল পুনর্বিন্যাসের বিকল্প নেই। সে কারণেই ৭৫ হাজার কর্মীর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
দেশের শিল্প ও রপ্তানি খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এ কে আজাদ সরকারের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবমুখী নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিল্পখাতের টেকসই বিকাশ, কর্মসংস্থান রক্ষা এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে সরকারকে আরও কার্যকর ও দূরদর্শী পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে শিল্পখাতে চাপ আরও বাড়বে এবং কর্মসংস্থান সংকটও গভীর হতে পারে।
শিল্প খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা এবং বাড়তি উৎপাদন ব্যয়ের কারণে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো আগামী বছরগুলোতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে পারে। এ কে আজাদের বক্তব্য সেই বাস্তবতারই একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au