এফ-৩৫ হ্যাঙ্গার ও ২১ মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ১০ জুন- মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের…
মেলবোর্ন, ১০ জুন- অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ সরকারের প্রস্তাবিত পুঁজিগত মুনাফা কর (ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স বা সিজিটি) এবং নেগেটিভ গিয়ারিং ব্যবস্থার পরিবর্তনকে ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রস্তাবিত কর সংস্কারের বিরুদ্ধে জনমত গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর বহু নাগরিক ও অর্থনীতিবিদ সরকারের সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে জনপরামর্শ শেষ করে সরকার দ্রুত আইনটি পাস করানোর চেষ্টা করছে।
গত ২৮ মে অস্ট্রেলিয়ার সিনেটে নতুন কর আইন নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়। সাধারণত সিনেটের জনপরামর্শ প্রক্রিয়া চার থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত চললেও এবার মাত্র ১২ দিনের জন্য মতামত গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আবার ‘কিংস বার্থডে’ দীর্ঘ সরকারি ছুটিও ছিল। ফলে অনেকেই বিষয়টিকে ‘তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
অনলাইনে জমা দেওয়া বিভিন্ন মতামতে নাগরিকরা সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। অনেকের দাবি, নির্বাচনের আগে লেবার পার্টি পুঁজিগত মুনাফা করের বর্তমান কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন না আনার ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু বাজেট ঘোষণার পর সরকার এখন দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা ৫০ শতাংশ সিজিটি ছাড় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে, যা বিনিয়োগ ও সম্পদ সৃষ্টিকে নিরুৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন সমালোচকরা।
একজন নাগরিক তার মতামতে লিখেছেন, দীর্ঘ সরকারি ছুটির মধ্যে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি কর পরিবর্তনের বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে মতামত জমা দিতে হওয়া হতাশাজনক। তিনি এটিকে সরকারের আরেকটি ‘কর আদায়ের কৌশল’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তহবিল ব্যবস্থাপক ও নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের সাবেক অর্থনীতিবিদ ডেরেক ফ্রান্সিসও। তিনি সিনেটে জমা দেওয়া এক বিশ্লেষণে দাবি করেন, প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে অস্ট্রেলিয়ায় পুঁজিগত মুনাফার ওপর করের হার বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি হয়ে উঠতে পারে।
সরকারের সমালোচকদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে আবাসন খাত, বিনিয়োগ বাজার এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। অন্যদিকে সরকারপন্থীরা বলছেন, কর ব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সঙ্গত করা এবং রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য সংস্কার প্রয়োজন।
এদিকে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরুর আগেই আইনটি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে কর সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখন অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au