শেরপুর-৩ আসনেও বড় ব্যবধানে জিতলেন বিএনপি প্রার্থী
মেলবোর্ন, ১০ এপ্রিল- শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে শেরপুর জেলা…
মেলবোর্ন, ৯ এপ্রিল- দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা বকেয়া বেতন, পদোন্নতির জটিলতা ও চাকরির অনিশ্চয়তা ঘিরে চরম ক্ষোভে ফুঁসছেন। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যকর সমাধান না পাওয়ায় এবার তারা কঠোর আন্দোলনের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে দেশজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি কার্যত ‘শাটডাউন’-এ যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য সহকারী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক এবং পোর্টার—এই চার ধরনের মাঠকর্মী দেশের প্রায় এক লাখ বিশ হাজার টিকাকেন্দ্রে প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করছেন। দুর্গম এলাকা, নদী-বিল, পাহাড়ি অঞ্চল পেরিয়ে তারা টিকা পৌঁছে দেন প্রত্যন্ত মানুষের কাছে। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেও তারা দীর্ঘদিন ধরে নানা বঞ্চনার শিকার বলে অভিযোগ করছেন।
বিশেষ করে পোর্টারদের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। দেশের বিভিন্ন এলাকায় টিকা সরবরাহে নিয়োজিত এসব কর্মীর প্রায় নয় মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। মাসজুড়ে কাজ করলেও তারা পূর্ণ বেতন পান না, দৈনিক হাজিরা হিসেবে সীমিত পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। তাও আবার নিয়মিত পরিশোধ হয় না। ফলে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বান্দরবানের লামা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের পোর্টার সমীর চক্রবর্তী সম্প্রতি রাজধানীতে এসে তার বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, প্রতিদিন দুই কাঁধে টিকার বাক্স নিয়ে দুর্গম পাহাড়ি পথে হেঁটে, কখনো সাইকেলে, কখনো নৌকায় করে টিকা পৌঁছে দিতে হয় বিভিন্ন কেন্দ্রে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঝুঁকি কিংবা কষ্ট—কিছুই তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। কিন্তু সেই পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য তারা পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় ব্যক্তিগত জীবনও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য সহকারী, পরিদর্শক ও সহকারী পরিদর্শকরাও দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও চাকরির কাঠামোগত সমস্যার সমাধান চেয়ে আন্দোলন করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, একই সময়ে অন্য খাতে নিয়োগ পাওয়া অনেকেই একাধিকবার পদোন্নতি পেলেও তারা বছরের পর বছর একই পদে আটকে আছেন। এতে কর্মক্ষেত্রে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
মাদারীপুর সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্য সহকারী ও ঢাকা বিভাগীয় সংগঠনের সভাপতি শাহাদুল ইসলাম রিপন বলেন, বহুবার দাবি জানানো এবং আশ্বাস পাওয়া সত্ত্বেও বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে তাদের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিধি শাখায় আটকে আছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাধান না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন পদ সৃষ্টি, পদোন্নতি বা নিয়োগ প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ এবং জটিল। সরকারের অনুমোদন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও বিধিমালা অনুসরণ করে এসব করতে হয়, যা সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় লাগে। তবে স্বাস্থ্যকর্মীদের দাবিগুলো বিবেচনায় নিয়ে কাজ চলছে বলেও তারা জানান।
এদিকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা অসহযোগিতায় গেলে পুরো কর্মসূচি ভেস্তে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য সহকারী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো জানিয়েছে, তারা ছয় দফা দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। বর্তমানে তিনটি দাবিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে—গ্রেড উন্নীতকরণ, নিয়োগবিধি সংশোধন এবং টেকনিক্যাল পদমর্যাদা প্রদান। এসব দাবি বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট অগ্রগতি না হলে আগামী ২৫ এপ্রিলের পর তারা দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রমে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারেন।
এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি একটি কমিটি গঠন করেছে, যার কাজ ১৫ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মীদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে সুপারিশ প্রদান করা। তবে নির্ধারিত সময়েও বৈঠক না হওয়ায় কমিটি গঠন নিয়েও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা আন্দোলন করলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবারই আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ধীরগতি তাদের হতাশ করছে।
পোর্টারদের পক্ষ থেকেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। তাদের সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমান সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছে—এমন তথ্য জানালেও তারা দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বলেন, ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের সমস্যাগুলো শোনা হয়েছে। পোর্টারদের বকেয়া বেতন এবং স্বাস্থ্য সহকারীদের পদোন্নতির বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। দ্রুত সমাধানের জন্য কাজ চলছে, তবে কিছুটা সময় লাগবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনও জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের দাবিগুলো আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।
তবে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে এখনো আস্থার সংকট কাটেনি। তাদের আশঙ্কা, আবারও শুধু আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। এমন অবস্থায় টিকাদান কর্মসূচি স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, যা দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au