মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ১০ এপ্রিল- অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের আইনসভার সদস্য জিমি সুলিভান-এর মরদেহ ব্রিসবেন শহরের একটি বাসা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১০টার পর ব্রিসবেন শহরের স্ট্যাফোর্ড এলাকার একটি ইউনিটে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৪ বছর।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনাকে আপাতত সন্দেহজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসার ভেতরে পড়ে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জিমি সুলিভান শ্রমিক দলঘনিষ্ঠ একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং ব্রিসবেন শহরেই তাঁর বেড়ে ওঠা। তিনি কেডরনের পদুয়া কলেজে পড়াশোনা করেন। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পরও তিনি উত্তর ব্রিসবেন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং সেখানকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে আসছিলেন।
তাঁর বাবা টেরি সুলিভান নিজেও কুইন্সল্যান্ডের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি শিক্ষক ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং ১৯৯১ সালে নুন্ডাহ আসন থেকে আইনসভায় নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি দুই মেয়াদে সরকারি হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পারিবারিক জীবনে জিমি সুলিভান তাঁর স্ত্রী ক্যারোলিন ম্যাকঅ্যানালির সঙ্গে স্থানীয়ভাবেই সংসার করছিলেন। তাঁদের একটি ছোট পরিবার রয়েছে এবং মৃত্যুর সময়ও তিনি সেখানেই বসবাস করছিলেন।
কুইন্সল্যান্ডের প্রিমিয়ার ডেভিড ক্রিসাফুলি এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সুলিভানের মৃত্যুতে রাজ্যের মানুষ বিস্মিত ও মর্মাহত। পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, কঠিন এই সময়ে তারা যেন শক্ত থাকতে পারেন।
২০২০ সালে কুইন্সল্যান্ড পার্লামেন্টে নির্বাচিত হন জিমি সুলিভান, যা ছিল তাঁর বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তাঁকে বিচার ও ভেটেরান বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তবে রাজনৈতিক জীবনে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিও হতে হয়েছে তাঁকে। গত বছর তিনি রাজ্য শ্রমিক দলের ককাস থেকে বহিষ্কৃত হন এবং এরপর স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে থাকেন।
২০২৪ সালের অক্টোবরে তাঁর বাসায় পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে পুলিশ ডাকা হয়েছিল। যদিও ওই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হয়নি। পরে ২০২৫ সালের মে মাসে তাঁর পদত্যাগ দাবি করে প্রস্তাব আনা হলে পার্লামেন্টে আবেগঘন বক্তব্য দেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, কোনো ধরনের সহিংসতা ঘটেনি, বরং তিনি কেবল সংসদে অশোভন ভাষা ব্যবহার করেছিলেন।
একই বক্তব্যে তিনি ব্যক্তিগত জীবনের সংকটের কথাও তুলে ধরেন। প্রথম কন্যাসন্তানের মৃত্যু এবং দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর মানসিক চাপে ভুগছিলেন বলে জানান তিনি। এ কারণে তিনি পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেসে আক্রান্ত হন এবং চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
তিনি বলেন, তিনি আদর্শগতভাবে শ্রমিক দলের প্রতি অনুগত এবং ভবিষ্যতেও দলের পক্ষেই ভোট দেবেন। একই সঙ্গে তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছিলেন।
জিমি সুলিভানের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যার বয়স এ বছর দুই বছরে পা দেবে।
এদিকে, তাঁর মৃত্যুতে স্ট্যাফোর্ড আসনটি শূন্য হয়ে পড়েছে এবং শিগগিরই সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au