ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বৈঠকে গুরুত্ব পাচ্ছে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা
মেলবোর্ন, ১০ জুন- বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, মন্দিরে ভাঙচুর, অপহরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আঞ্চলিক কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে…
মেলবোর্ন, ১০ জুন- বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও লুটপাটের সংস্কৃতিকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে বিশ্বব্যাংক। এমন অভিযোগ তুলে কঠোর সমালোচনা করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা আনিস চৌধুরী। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইন্টার প্রেস সার্ভিসে (আইপিএস) প্রকাশিত এক মতামতধর্মী নিবন্ধে তিনি দাবি করেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির কথা বললেও বাস্তবে বিশ্বব্যাংকের ঋণ ও নীতিগত অবস্থান বাংলাদেশের দুর্নীতিগ্রস্ত জ্বালানি খাতকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রাখছে।
‘বাংলাদেশে দুর্নীতি সক্ষম করছে বিশ্বব্যাংক’ শিরোনামের নিবন্ধে আনিস চৌধুরী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রকাশিত অর্থনীতি বিষয়ক শ্বেতপত্রে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকৃত চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছিল মূলত রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩২ হাজার মেগাওয়াট হলেও গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। ফলে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস পড়ে থাকলেও সরকারকে নিয়মিত ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে।
নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়, ২০১০ সালে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত বৃদ্ধির নামে প্রণীত বিশেষ আইন এবং প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই বিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদনের সুযোগ দুর্নীতির ক্ষেত্র তৈরি করে। এর ফলে কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক বেশি দামে বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগ পেয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
আনিস চৌধুরীর দাবি, ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে অতিরিক্ত সক্ষমতার জন্য প্রায় ২ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। শুধু ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট চুক্তিগুলো বাতিল না করে সরকার উল্টো বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পথে হাঁটছে, যার বোঝা বহন করতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।
নিবন্ধে বিশ্বব্যাংকের ভূমিকাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। আনিস চৌধুরীর মতে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিদ্যুৎ খাতকে অদক্ষ ও দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে তুলে ধরে বিশ্বব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারিকরণকে উৎসাহ দিয়েছে। স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদক (আইপিপি) প্রতিষ্ঠা, বিদেশি বিনিয়োগ এবং এলএনজি আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতিকে সমর্থন করেছে সংস্থাটি।
তার অভিযোগ, সম্প্রতি জ্বালানি নিরাপত্তার নামে বাংলাদেশকে আরও ৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বব্যাংক। অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দুর্নীতিগ্রস্ত চুক্তি বাতিল এবং অস্বাভাবিক ক্যাপাসিটি চার্জ বন্ধ করা হলে সেই সাশ্রয় হওয়া অর্থ দিয়েই জ্বালানি আমদানির ব্যয় মেটানো সম্ভব হতো।
আনিস চৌধুরী বলেন, বিশ্বব্যাংক একদিকে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কথা বলে, অন্যদিকে বাস্তবে দুর্নীতিগ্রস্ত খাতেও ঋণ সহায়তা অব্যাহত রাখে। তিনি বিশ্বব্যাংকের এই অবস্থানকে ‘সংগঠিত ভণ্ডামি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নিবন্ধে তিনি বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব মূল্যায়ন প্রতিবেদনেরও উল্লেখ করেন। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক মান ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার অবনতি ঘটলেও ২০১১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে দেশটিতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং বাংলাদেশ সংস্থাটির অন্যতম বৃহৎ ঋণগ্রহীতা দেশে পরিণত হয়েছে।
আনিস চৌধুরীর মতে, আন্তর্জাতিক ঋণব্যবস্থার একটি মৌলিক সমস্যা হলো ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় ঋণ দেওয়ার জন্য ঋণগ্রহীতাদের চেয়েও বেশি আগ্রহী থাকে। ফলে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও বাস্তব কারণে তারা অনেক ক্ষেত্রে তা উপেক্ষা করে।
তার ভাষায়, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে বিশ্বব্যাংকের নীতিগত দ্বৈততা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দুর্নীতির সুযোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।”
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের জ্বালানি খাত, বিদেশি ঋণ এবং দুর্নীতিবিরোধী নীতির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে আনিস চৌধুরীর এই মন্তব্য।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au