শ্রুতি পালের মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন
মেলবোর্ন, ৯ জুন- ফেনীতে চট্টগ্রামের বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী শ্রুতি পালের মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তিনি চট্টগ্রামের একটি গীতাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং…
মেলবোর্ন, ৯ জুন- পাকিস্তানের সঙ্গে শিক্ষা সহযোগিতা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ নিয়ে সাম্প্রতিক সরকারি উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে একটি বিশ্লেষণধর্মী লেখা। লেখাটিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যে দেশ এখনো ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়নি এবং তাদের পাঠ্যপুস্তকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়, সেই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পাঠানোর যৌক্তিকতা কতটুকু।
বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তানের নবম শ্রেণির ‘পাকিস্তান স্টাডিজ’ পাঠ্যবইয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধকে বিকৃতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের ‘দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রভাব ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ইতিহাস ব্যাখ্যা করা হয়েছে। লেখকের মতে, এমন ইতিহাসচর্চা একটি রাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থার বুদ্ধিবৃত্তিক সততা ও মুক্তচিন্তার পরিবেশ সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান এডুকেশন এক্সপো ২০২৬’-এ শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন পাকিস্তানের শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়নের প্রশংসা করেন। তিনি পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও শিক্ষাব্যবস্থাকে ‘অত্যন্ত চমৎকার’ বলে মন্তব্য করেন। তবে লেখক দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূচক ও পরিসংখ্যান পাকিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থার ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে।
ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে সাক্ষরতার হার ৫৮ শতাংশ, যেখানে বাংলাদেশে এই হার ৭৯ শতাংশ। পুরুষ ও নারী উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ইউনেস্কোর শিক্ষা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের তথ্যও দেখায়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্তির হার বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বৈশ্বিক শিক্ষা সূচকেও পাকিস্তান বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পাকিস্তানের তুলনায় এগিয়ে। একইভাবে গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক প্রকাশনার মানদণ্ডেও বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে।
বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারের ‘নেচার ইনডেক্স’ বিশ্লেষণ তুলে ধরে লেখক বলেন, গবেষণা সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধান অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও চীন। অন্যদিকে পাকিস্তানের গবেষণা কার্যক্রম অধিকাংশ ক্ষেত্রে চীননির্ভর। ফলে বৈশ্বিক জ্ঞান ও গবেষণা নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি বহুমাত্রিক ও শক্তিশালী।
লেখাটিতে আরও বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা সাধারণত নিজেদের দেশের চেয়ে উন্নত শিক্ষা ও গবেষণা পরিবেশসম্পন্ন দেশে যেতে আগ্রহী হয়। সে ক্ষেত্রে পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কতটা আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও গবেষণা সক্ষমতা প্রদান করতে পারে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে পিএইচডি ডিগ্রির বৈশ্বিক স্বীকৃতি এবং আন্তর্জাতিক গবেষণায় অংশগ্রহণের সুযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
লেখকের মতে, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও সমাধান হতে পারে নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা এবং উন্নত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপ, মালয়েশিয়া কিংবা উত্তর আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও মানসম্পন্ন সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।
বিশ্লেষণের শেষাংশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকতেই পারে, তবে ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতীয় আত্মপরিচয়ের প্রশ্নকে উপেক্ষা করে শিক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান এখনো ১৯৭১ সালের গণহত্যার দায় স্বীকার করেনি এবং পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে যাচ্ছে। তাই উচ্চশিক্ষার নামে কোনো উদ্যোগ গ্রহণের আগে শিক্ষা, গবেষণা, ইতিহাস ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো গভীরভাবে বিবেচনা করা উচিত।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au