জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে একদিনে ৯১টি বিল পাস
মেলবোর্ন, ১১ এপ্রিল- জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের অংশ হিসেবে একদিনেই মোট ৯১টি বিল পাস হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল)…
মেলবোর্ন, ১০ এপ্রিল- আজ ১০ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকার গঠন দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এই দিনটি এক বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এই দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়, যা পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্মম হামলা চালায়। সেই ভয়াবহ ঘটনার পরই স্বাধীনতার পথে আনুষ্ঠানিক সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় একই বছরের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়, যা স্বাধীনতা যুদ্ধকে একটি সুসংগঠিত রূপ দেয়।
এই দিনে পাকিস্তানের নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যরা সীমান্তবর্তী গোপন স্থানে মিলিত হয়ে প্রবাসী সরকার গঠন করেন। পরবর্তীতে এই স্থানটি ইতিহাসে বিশেষ মর্যাদা পায়। সরকার গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়।
অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। পরে তিনি তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। এই নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সরকার কাঠামো গড়ে ওঠে।
মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমদ, যিনি পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক দায়িত্বে ছিলেন। এম মনসুর আলী অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
১০ এপ্রিল সরকার গঠনের পরদিন ১১ এপ্রিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে তাজউদ্দিন আহমদ জাতির উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। সেখানে তিনি মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি, প্রতিরোধ যুদ্ধের বিস্তৃতি এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এই ভাষণ মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগায়।
পরবর্তীতে ১৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। মেহেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী বৈদ্যনাথতলা গ্রামে এই শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শপথ গ্রহণের পর এই স্থানটির নামকরণ করা হয় মুজিবনগর, যা পরবর্তীতে ঐতিহাসিক পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এরপর ১৮ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদের প্রথম সভায় মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করা হয় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত হয়। এই সরকারের নেতৃত্বে দেশজুড়ে মুক্তিযুদ্ধের কার্যক্রম আরও সমন্বিতভাবে পরিচালিত হতে থাকে।
মুজিবনগর সরকারের কার্যকর নেতৃত্ব, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত প্রতিরোধের ফলেই দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে স্বাধীনতা লাভ করে।
আজকের এই দিনটি তাই কেবল একটি ইতিহাস নয়, বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনের ভিত্তি স্থাপনের এক গৌরবময় স্মারক হিসেবে বিবেচিত হয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au