জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে একদিনে ৯১টি বিল পাস
মেলবোর্ন, ১১ এপ্রিল- জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের অংশ হিসেবে একদিনেই মোট ৯১টি বিল পাস হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল)…
মেলবোর্ন, ১০ এপ্রিল- অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে (এনএসডব্লিউ) ইলেকট্রিক ভেহিকেল বা বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে, যা রাজ্যের আঞ্চলিক এলাকায় চার্জিং অবকাঠামোর বড় ঘাটতিকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে ইস্টারসহ দীর্ঘ ছুটির সময় সাউথ ও সেন্টার রিজিওনের বিভিন্ন চার্জিং পয়েন্টে ইভি গাড়ির ভিড় ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের বেশিরভাগ ইভি চার্জিং স্টেশন ইস্টার্ন রিজিওনে কেন্দ্রীভূত। তবে ওয়েস্টার্ন রিজিওন এবং প্রান্তিক এলাকায় এসব সুবিধা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ফলে দীর্ঘ দূরত্বে ইভি চালিয়ে যাওয়া চালকদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গাড়ি চালকেরা।
ইস্টার সোমবারের দিনে হিউম হাইওয়ের কাছে কুলাক এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি নজরে আসে। গন্ডেগাই শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে এই এলাকায় ১২টি চার্জিং পয়েন্ট ব্যবহার করতে ২০টির বেশি গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এতে চালকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
ওয়াগা ওয়াগা এলাকার বাসিন্দা ক্যামেরন ডুনার সম্প্রতি একটি নতুন ইলেকট্রিক গাড়ি কিনেছেন। তবে তিনি জানান, দূরপাল্লার বা পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রায় এই গাড়ি ব্যবহার নিয়ে তিনি এখনো অনিশ্চিত।
তিনি জানান, রাজধানী শহরগুলোতে যাতায়াতে কোনো সমস্যা না হলেও ওয়াগা ওয়াগার বাইরে আরও পশ্চিমে যাওয়ার পরিকল্পনা তিনি করছেন না। তার মতে, আঞ্চলিক এলাকায় গাড়ি চালানো আরামদায়ক হলেও দূরবর্তী এলাকায় চার্জিং সুবিধার অভাব বড় বাধা।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রত্যন্ত এলাকায় শুধুমাত্র ইভি গাড়ির ওপর নির্ভর করা বাস্তবসম্মত নয়।
অন্যদিকে, নতুন তথ্য বলছে ইভি ব্যবহারের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এনআরএমএ ইভি চার্জিং নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শেষের দিকে চার্জিং স্টেশন ব্যবহারের হার আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে। জ্বালানি খরচ বাড়তে থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার ইলেকট্রিক ভেহিকেল কাউন্সিলের (ইভিসি) তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে দেশটিতে রেকর্ড পরিমাণ ইভি বিক্রি হয়েছে। ওই মাসে মোট গাড়ি বিক্রির ২২ দশমিক ৯ শতাংশ ছিল বৈদ্যুতিক গাড়ি, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।
ইভিসির প্রধান নির্বাহী জুলি ডেলভেচিও বলেন, ইস্টার ছুটির সময় ইভি চার্জিং নেটওয়ার্ক ছিল এখন পর্যন্ত অন্যতম বড় পরীক্ষা। তার মতে, জ্বালানি সংকট ও খরচ বৃদ্ধির কারণে চার্জিংয়ের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে আরও চাপ তৈরি করবে।
বিশেষ করে আঞ্চলিক এলাকায় সীমিত অবকাঠামোর কারণে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি ও পরিবেশ দপ্তরের (ডিসিইইডব্লিউ) এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সরকার ইতোমধ্যে দুই হাজারের বেশি চার্জিং স্টেশন স্থাপনে সহায়তা করেছে, যা ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
২০২১ সালের একটি মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী, এনএসডব্লিউ সরকার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে যে ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন গাড়ি বিক্রির ৫০ শতাংশ হবে ইভি। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০ কোটি ৯০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারের বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
ইভিসি আরও বলছে, জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত চার্জিং পরিকল্পনা প্রয়োজন, যাতে দেশের সব অঞ্চল সমানভাবে সুবিধা পায়। বিশেষ করে গ্রামীণ ও আঞ্চলিক এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন না হলে বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রসার বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
গ্রামাঞ্চলের গ্রং গ্রং এলাকার বাসিন্দা জেমা পার্সেল এক বছরের বেশি সময় ধরে ইভি ব্যবহার করছেন। তিনি জানান, সাধারণত তিনি ছোট দূরত্বের ভ্রমণেই গাড়িটি ব্যবহার করেন, যেমন বাজার করা, স্কুলে যাতায়াত বা স্থানীয় এলাকায় চলাচল।
তবে ইস্টার ছুটিতে তার এলাকায় অনেক বেশি মানুষ ইভি চার্জ করতে আসতে দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি জানান, এবার তিনি প্রথমবারের মতো দীর্ঘ দূরত্বে, অর্থাৎ ভিক্টোরিয়া রাজ্যে ছুটিতে ইভি নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তবে যাত্রাপথে অন্তত একবার দীর্ঘ সময় থামতে হবে এবং ধৈর্য ধরে চার্জিংয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে বলেও জানান তিনি।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সিডনির উপশহর থেকে শুরু করে প্রধান মহাসড়ক এবং আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলো পর্যন্ত একটি সংযুক্ত চার্জিং নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজ চলছে। এর মধ্যে এম ওয়ান ও হিউম হাইওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রুট এবং ডাব্বো, ওয়াগা ওয়াগা ও ট্যামওর্থের মতো শহরগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইভি ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও অবকাঠামোর ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিউ সাউথ ওয়েলসে এই সংকট আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যা ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিস্তারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au