মেলবোর্ন, ১১ এপ্রিল- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল প্রত্যাশিত শান্তি আলোচনা শুরুর প্রাক্কালে ইসলামাবাদে কূটনৈতিক তৎপরতা তীব্র হয়েছে। দুই দেশ শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও আলোচনার সফলতা নির্ভর করছে ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা পরিকল্পনার ওপর।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবকে “আলোচনার জন্য কার্যকর ভিত্তি” হিসেবে উল্লেখ করলেও, তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ইরানের প্রস্তাবে আঞ্চলিক সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ, দেশটির ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এসব শর্ত পূরণে স্পষ্ট অঙ্গীকার না পেলে আলোচনায় অগ্রগতি হবে না। এমনকি প্রয়োজন হলে ইরান আলোচনা থেকে সরে আসতেও প্রস্তুত—এমন ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ইসলামাবাদে অবস্থানরত ইরানি প্রতিনিধিদল প্রথমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-এর সঙ্গে বৈঠক করেছে বলে জানা গেছে। এই বৈঠকে মূল আলোচনার কাঠামো ও সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বারবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার অভাবের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তেহরানের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা তুলনামূলক শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং নিজেদের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখতে প্রয়োজন হলে বিকল্প পথেও এগোতে পারে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল চালু রাখার বিষয়ে যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে সাময়িক সমঝোতা হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে আলোচনার ফলাফল অনিশ্চিত থাকায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ এখনো কাটেনি।
সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সুত্রঃ বিবিসি