কুষ্টিয়ার ফিলিপনগরে পীর শামীম রেজা হত্যাকাণ্ডে মামলা না করার সিদ্ধান্ত পরিবারে
মেলবোর্ন, ১৩ এপ্রিল- কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে মাজারে হামলা ও হত্যার শিকার পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরের ঘটনায় কোনো মামলা…
মেলবোর্ন, ১৩ এপ্রিল- ইরানের বন্দরগুলোকে ঘিরে সম্ভাব্য মার্কিন নৌ অবরোধকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যে চীন সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর হুমকির পর বেইজিংয়ের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
চীন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার না করলেও পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনায় ইরানকে অংশ নিতে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে তাদের কূটনৈতিক ভূমিকা ছিল কি না, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের দ্রুত অবসান চায় বেইজিং, যার পেছনে কেবল জ্বালানি নয়, বরং বিস্তৃত অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরান চীনের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১৩ শতাংশ সরবরাহ করে। ফলে সরাসরি জ্বালানি ঘাটতির আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম। প্রয়োজন হলে চীন বিকল্প উৎস থেকেও তেল আমদানি করতে সক্ষম।
তবে মূল উদ্বেগের জায়গা হলো হরমুজ প্রণালি। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর বিপুল জ্বালানি সরবরাহ বিশ্ববাজারে প্রবেশ করে। ফলে এই প্রণালিতে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বা অবরোধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য দ্বন্দ্বের পর মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেছে চীন। ২০২৫ সালে অঞ্চলটিতে চীনের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল। এ প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বেইজিংয়ের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
চীনের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে বৈশ্বিক বাজারে পণ্য রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা সরাসরি তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে, এমন একটি কৌশলগত জলপথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ুক, সেটিও চায় না বেইজিং।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই প্রেক্ষাপটে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। একদিকে সংঘাত নিরসনের আহ্বান, অন্যদিকে সরাসরি সামরিক বা নিরাপত্তা গ্যারান্টিতে জড়ানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা—এই দ্বৈত নীতি অনুসরণ করছে বেইজিং।
সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আর সেই কারণেই পরিস্থিতির দিকে নিবিড় নজর রাখছে চীন, যদিও তাদের দীর্ঘদিনের ‘অ-হস্তক্ষেপ’ নীতি এখনো বহাল রয়েছে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au